আখ চাষে ভাগ্য বদলাতে চান জমির
আখ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। পাট চাষের চেয়ে আখ চাষ অধিক লাভজনক বলে চাষিরা পাটের চেয়ে আখ চাষেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ এ দেশের প্রতিটি জেলাতেই কিছু না কিছু আখের চাষ হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আখ চাষ করে ভাগ্য বদলাতে চান কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জমির উদ্দীন।
তিনি উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত বছর তার ফুফাতো ভাই রাকিবকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ শুরু করেন। এবার নিজেই আবাদ করেছেন এই আখ।
জমির উদ্দীন বলেন, কয়েক বছর ধরে এই উপজেলায় গেন্ডারি জাতের আখের চাষ শুরু হয়েছে। আমি এবার দুই বিঘা চাষ করেছি। আখ বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি, আখ চাষে ভালো লাভ হবে। এই গেন্ডারি আখ অন্য আখের মতোই। রোগবালাইও খুব একটা নেই বললেই চলে।
তিনি আরো বলেন, ঈশ্বরদী থেকে এ আখের বীজ নিয়ে আসা হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। প্রতি বিঘার আখ ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে।
জমির উদ্দীন গেন্ডারি বাগান পরিদর্শন করে পরামর্শ নিতে এসেছিলেন উপজেলার চাদগ্রামের লালু শাহ। তিনি বলেন, ‘গেন্ডারি আখ খুবই সুস্বাদু, রসালো ও মিষ্টি। তাই এর চাষ পদ্ধতি বিষয়ে তার কাছে জানতে এসেছি। তার এই সাফল্য দেখে আমিও কয়েক বিঘা জমিতে এই গেন্ডারি চাষ করতে চাই’।
জমির উদ্দীন আরো বলেন, আখের পরিচর্যা করতেই বেশি খরচ হয়। এক বছর ধরে প্রতিদিন চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে। বিঘাপ্রতি আখ রয়েছে ২৮-২০ হাজারের মতো। জমি থেকেই ক্রেতারা পাইকারি ২৮-৩০ টাকা পিস হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, কৃষক জমির উদ্দীন এবারে বিএসআরআই আখ-৪২,বিএসআরআই আখ-৪৭ মালয়েশিয়া আবাদ করেছেন। গেন্ডারি জাতের আখ চাষ খুবই লাভজনক।
ভেড়ামারা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা জানান, আখের জমি একটু নিচু বা অসমান হলে বর্ষার সময় ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ তাই বৃষ্টি অথবা সেচের অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে৷
ভেড়ামারা কৃষি কর্মকর্তা শায়েখুল ইসলাম বলেন, গেন্ডারি জাতের আখ চাষ খুবই লাভজনক। ভেড়ামারা উপজেলায় এ জাতের আখ চাষ শুরু হয়েছে। আশা করছি, লাভজনক হওয়ায় এ জাতের আখের চাষ আরো বাড়বে।