ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই ইভার শরীর থেকে মাথা পৃথক করে বড় ভাই

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:২৫, ৮ অক্টোবর ২০২৩
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই ইভার শরীর থেকে মাথা পৃথক করে বড় ভাই
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের ছাতকে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু ইভা আক্তারের দেহ থেকে পৃথক করা মাথা উদ্ধারের পর খুনের সঙ্গে জড়িত থাকায় শিশুরই আপন বড় ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গতকাল শুক্রবার নিজ গ্রাম থেকে আপন ভাই রবিউলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আপন ভাইকে গ্রেফতারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ।

এর আগে বুধবার রাতে ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি গ্রামের সড়কের পাশের একটি ধান খেত থেকে ওই শিশুর মাথা বিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাতক সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার রণজয় চন্দ্র মল্লিক ও ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশি তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার হত্যা মামলার মূল আসামি ছাতকের দক্ষিণ কুরশী গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে ও শিশু ইভার বড় ভাই রবিউল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ  জানায়, ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় দক্ষিণ কূর্শী গ্রামের আতাউর রহমানের ধান ক্ষেতে মাথাবিহীন অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় ইভা বেগম (১০) নামের এক শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনার শিশুটির পিতা মো. মশাহিদ আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। শিশুর ভাই রবিউল হাসানের কথা বার্তায় সন্দেহজনক মনে হলে তাকে নিবিড়ভাবে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় সে তার বোন ইভাকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

গ্রেফতার আসামি রবিউল হাসানসহ দক্ষিণ কূর্শী গ্রামের লিকসন, আক্কল মিয়া,  হোসেন সহ একই গ্রামে একটি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাস করেন। জামিনে মুক্ত হয়ে রবিউল হাসান, লিকসন, আক্কলসহ একই গ্রামের আহমেদ আলী (৩৮), মুজিব (৪২) ও লিটন মিলে খুন মামলাটি সহজে মীমাংসা করার জন্য আরেকটি খুন করে পূর্বের খুন মামলার বাদি পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা করেন।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৪ অক্টোবর রবিউল হাসান তার ছোট বোন ইভাকে মোবাইলের মিনিট কার্ড আনার জন্য গ্রামের একটি দোকানে পাঠায়। মিনিট কার্ড কিনে দোকান থেকে বাড়ি আসার পথে আসামিগণ শিশু ইভাকে আক্কলের বাড়িতে নিয়ে যায়। আসামিরা শিশু ইভার মুখ, মাথা ও পা চেপে ধরে একটি রামদা দিয়ে ঘাড়ে কোপ মেরে মাথা দেহ থেকে আলাদা করে ফেলে। পরবর্তীতে আসামিরা ছুরি দিয়ে শিশু ইভার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে। আসামিরা শিশু ইভার দেহ আতাউর রহমানের ধানখেতে এবং মাথা লিটনদের জমিতে ফেলে রেখে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামি রবিউল হাসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল ৬ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে শিশু ইভার মাথা লিটনদের জমি থেকে উদ্ধার করা হয়। আসামিকে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!