এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দিনের বেলা কুকুরকে এড়িয়ে চলা গেলেও রাতে কোনো পথচারীকে একা পেলে কুকুর আক্রমণ করে। তা ছাড়া অনেক এলাকায় কুকুরের কামড়ে ছাগলও মারা যাচ্ছে। কুকুর এখন মুরগি ধরে ধরে খায়- এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। কুকুর নিধনের আইন না থাকায় দিন দিন ভেড়ামারাতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাও বাড়ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফারাকপুর রেল গেট মোড়, কলেজ বাজারের সামনে, স্টেশন বাজার, পৌর মার্কেট, প্পারফেসার পাড়া, বাস স্ট্যান্ড, শাপলা চত্বর, বক চত্বর, ফায়ার সার্ভিস, ব্যাকাপুল, সমিতি মোড়, ফারাকপুর ও নওদাপাড়া এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। কোথাও সড়কে শুয়ে আছে কুকুর, আবার কোথাও দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে একেকটা দলে ৫-৭টি, কখনো আবার ৭-১০টি কুকুর থাকে। প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ে মানুষ আহত হচ্ছেন।
.png)
ফারাকপুর গ্রামের আব্দুল কাইউম বলেন, প্রতিদিন ২-৩ জন করে পথচারীকে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে কিংবা আঁচড়ের কারণে জলাতঙ্কের টিকা নিচ্ছেন। প্রতিদিনি সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ টিকা প্রদান করা হয়। টিকা গ্রহণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান তিনি।
পৌর মেয়র আনোয়ারুল কবির বলেন, আগে তো প্রতিবছর কুকুর মারা হতো। এখন উচ্চ আদালতের রায়ে কুকুর নিধনের বিধান না থাকায় কুকুর নিধনের অভিযান চালাতে পারছি না। কুকুরের বংশবিস্তার রোধে জন্ম নিরোধ ইঞ্জেকশন দেয়া হচ্ছে না।
চক ভেড়ামারা গ্রামের আব্দুল আলীম জানান, কয়েক দিন এলাকার কয়েকজনের ছাগল মেরে ফেলছে কুকুর। কয়েকজন একসঙ্গে আক্রমণ করে গলায় কামড় দিয়ে ধরে থাকে। তৎক্ষণাৎ মারা যায় ছাগল। তা ছাড়া মুরগি ধরে ধরে খায়। কুকুরের অত্যাচারে হাঁস, মুরগি, ছাগল পালনও কঠিন হয়ে গেছে।
রমজান আলী জানান, প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। কুকুরের কারণে অনেকে রাতে বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পায়। অনেক স্থানে নারী ও শিশুরা কুকুরের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া এক রকম বন্ধ করে দিয়েছেন। ফজরে নামাজ আদায় করতে মসজিদে যেতে ভয় পান। এ জন্য অনেকেই বাড়িতে নামাজ আদায় করেন। আবার অনেকেই ফজরের নামাজ পড়তে গেলে হাতে লাঠি ব্যবহার করেন।