ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোড এলাকার লুৎফর রহমান মোল্লা বাসার ৪ তলায়। এই দুই নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে ছিল অতিরিক্ত মদ্যপান। নিহতের স্বজনরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
নিহত সাগরিকা আহাম্মেদ শহরের উকিলপাড়া এলাকার কেএইচ শাকিল আহম্মেদের মেয়ে ও পারুল আক্তার রুপা ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার মালেক মাতুব্বরের মেয়ে। তারা দুইজন বান্ধবী। সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন ও তার মামা বাবু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
.png)
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সাগরিকা ও তার বান্ধবী পারুল আক্তার রুপা, মা সাবিনা ইয়াসমিন এবং মামা বাবু মিলে মদ্যপান করে নাচ-গান করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে হঠাৎ করেই তাদের চিৎকার শুনে রুমে ছুটে যান বাসার কেয়ারটেকার হেলাল সরদার। এ সময় ফ্লোরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সাগরিকাকে। এছাড়া অসুস্থ অবস্থায় সাগরিকার বান্ধবী পারুল আক্তার রুপা, সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন ও তার মামা বাবুকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিলে পারুল আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
সাগরিকার মামা বাবু বলেন, আমরা ভাগনি কোথা থেকে মদ নিয়ে এসে আমাকে খাওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করে। পরে বাধ্য হয়ে ভাগনির মন রক্ষায় আমিও মদপান করি। পরে আমার আর কিছু মনে নেই। চোখ মেলে দেখি আমি হাসপাতালে। পরে জানতে পারি, ওই মদ খেয়ে আমার ভাগনি আর ওর বান্ধবী মারা গেছে।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, সাগরিকা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পরে জানা যাবে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, জানা যায় সাগরিকা, তার বান্ধবী, মা ও মামাকে নিয়ে মদ খেয়ে নাচ গান শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এরপর সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।