ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাকা আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৫:১৮, ১২ নভেম্বর ২০২৩
পাকা আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ
সাতক্ষীরায় পাকা আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাতক্ষীরায় পাকা আমন ধানে ব্যাপকভাবে কারেন্ট পোকা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপা আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে চাষিরা আশানুরূপ ফলন পাবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও তেমন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া পাকা ধানে এমন কারেন্ট পোকা এর আগে কখনো দেখেননি তারা। এদিকে কারেন্ট পোকা দমনের জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে আমন চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৫৯০ টন চাল উৎপাদন লক্ষ্য নিয়ে ৮৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ২৪৩ হেক্টর পরিমাণ বেশি। গত মৌসুমে জেলায় রোপা আমনের আবাদ হয়েছিলো ৮৮ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে। যা থেকে ২ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৭ টন আমন উৎপাদন হয়।

Advertisement

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাধনডাঙ্গা গ্রামের আমন চাষি আজহারুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা পরিমাণ জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। ধানের ফলনও খুবই ভালো। কিস্তু ক্ষেতে ধান পাকা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারেন্ট পোকার আক্রমণে অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।  গত দুই দিনে প্রায় ২০ শতাংশ জমির ধান কর্তন করেছেন। কিন্তু কারেন্ট পোকা লেগে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ধান চিটা হয়ে গেছে। 

কৃষক আজহারুল ইসলাম আরো জানান, গত মৌসুমে একই পরিমাণ জমিতে রোপা আমন চাষ ২০০ মণ ধান উৎপাদন করেছিলেন। কিস্তু চলতি মৌসুমে ১০০ মণ ধান পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। 

তিনি আরো জানান, জমি চাষ, বীজতলা, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে প্রতি বিঘাতে ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে আমন চাষে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘাতে ১ লাখ ২০ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের যে অবস্থা তাতে উৎপাদন খরচটা হয়তো কোনো রকম উঠে আসবে।

একই অবস্থা বাধনডাঙ্গা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল হাকিম, আব্দুল খালেক, এনামুল হক, আনারুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিনের। তারা সবাই কম বেশি পরিমাণ জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন বলে জানান। কিন্তু হঠাৎ করে কারেন্ট পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে তাদের ক্ষেতের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পাকা ধান। 

তারা আরো জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পোকা দমনের জন্য তড়িত ও মিমসিনসহ বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

শুধু সদর উপজেলার বাধনডাঙ্গা গ্রামই নয় জেলার সব উপজেলাতেই চলতি রোপা আমনে দেখা দিয়ে ব্যাপকভাবে কারেন্ট পোকা। এতে করে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন আমন চাষিরা।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার বেশ কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার জন্য। কৃষকরা যাতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: সাতক্ষীরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!