মঙ্গলবার দুপুর থেকেই মানিকগঞ্জ পৌরসভার জয়রা এলাকায় নানা বয়সী শত শত উৎসুক জনতার ভিড় জমে নতুন দম্পতি মোহাম্মদ মিশু ও তৃষ্ণা আক্তারকে দেখতে।
১৪ বছর আগে নিজের ইচ্ছাপূরণ করতে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যান মিশু। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। মিশুকে বিয়ে দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ ঘটা করেই কনে দেখাশোনা হয়। শেষে পারিবারিকভাবেই হবিগঞ্জ জেলায় বিয়ে ঠিক হয়।
.png)
মিশুর বৃদ্ধা মা জানান, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে হেলিকপ্টারযোগে বিয়ে করাব। আমার ছেলে আজ সেই ইচ্ছা পূরণ করেছে। আমি খুব আনন্দিত। এখন মরেও শান্তি পাব। আজ মিশুর বাবা বেঁচে থাকলে ছেলের এমন আয়োজন দেখে আরও বেশি খুশি হতো।’
জানা গেছে, ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় একটি হেলিকপ্টার তিন ঘণ্টার জন্য ভাড়া করেন জয়রা এলাকার মৃত কাশেম আলীর ছেলে মোহাম্মদ মিশু। দুপুর সাড়ে ১২টায় জয়রা মাঠে নতুন দম্পতি নিয়ে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। এরপর বরকে উঠিয়ে উড়াল দেয় হবিগঞ্জে। সেখানে দেড় ঘণ্টার মতো অবস্থান করে বর-কনে নিয়ে আবার উড়ে আসে মানিকগঞ্জে বরের বাড়িতে।
এদিকে নতুন বউকে একনজর দেখতে দুপুর ২টা থেকে জয়রায় বরের বাড়ির পাশের চকে উপস্থিত হন শত শত নারী–পুরুষ ও শিশু। হেলিকপ্টার অবতরণের পর বরের মা–বোন এবং আত্মীয়–স্বজনেরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করেন। এরপর একটি রিকশায় করে বর-কনেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
মোহাম্মদ মিশু বলেন, আমার মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমি শান্তি পাচ্ছি। বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতো। আমি যেন সাংসারিক জীবনে সুখি হতে পারি, আপনারা দোয়া করবেন।’
হেলিকপ্টারে করে শ্বশুর বাড়ি এসে আপ্লুত কনে তৃষ্ণা আক্তার বলেন, হেলিকপ্টারে বিয়ে হবে এটা কখনো ভাবিনি। আজ আমার ভীষণ খুশি লাগছে। আমি মিশুকে পেয়ে হ্যাপি। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই।