.png)
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে বাল্কহেডের ভেতরে ইঞ্জিনের পাশে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাল্কহেডের ইঞ্জিন মিস্ত্রি হানিফ নিয়াজি, লস্কর মো. হানিফ ও পাচক মো. নাকিব হাসান। তাদের টঙ্গিবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা করেছে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন সিরাজদিখান-টঙ্গিবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রিফাত।
মুন্সীগঞ্জ সদরের চর আবদুল্লা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাসনাত জামান বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচতে উদ্ধার বাল্কহেডের ইঞ্জিন কক্ষে তেল রাখার ড্রামে বিশেষ কায়দায় ওই তিন শ্রমিক লুকিয়ে ছিলেন। সন্ধ্যায় নৌ পুলিশ বাল্কহেড তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর বাল্কহেডের চালক পালিয়ে যান। ট্রলার চালক আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে বাল্বহেড মালিক মো. নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রোববার রাতে। সোমবার গ্রেফতারকৃতদের কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের হাসাইলের চর থেকে ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি হাসাইল ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। তখন দক্ষিণ দশআনি নামের বাল্কহেডটি চাঁদপুর থেকে বালু আনতে পদ্মার শাখানদী দিয়ে মূল নদীর দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে অসাবধানতাবশত বাল্কহেডটি ট্রলারের ওপর উঠে যায়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশিপুর এলাকার মো. ফারুকের মেয়ে ফাইজা আক্তার (৬) ও মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা এলাকার নজরুল ব্যাপারীর মেয়ে শিফার (১৫) লাশ উদ্ধার করা হয়।
রোববার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী নৌযান দুর্ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি নদী থেকে টেনে তোলা হয়। এ ঘটনায় রোববার রাত আটটা পর্যন্ত সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হারুন অর রশিদ খান (৫০) ও লাশ উদ্ধার হওয়া শিফার খালাতো ভাই রাজধানীর ধানমন্ডির শংকর এলাকার মাহফুজুর রহমান (৩৫) নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধান না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। জীবিত না পেলেও অন্তত তাদের মুখ শেষবারের মতো দেখতে চান তারা।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক ও উদ্ধারকারী যানের কমান্ডার ওবায়দুল করিম বলেন, দিনভর বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ কাউকে পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস আবার অভিযান চালাবে।