ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত চাষি

আব্দুল হালিম, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১৫:০২, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩
রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত চাষি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পেয়াঁজ উৎপাদনের জন্য সমৃদ্ধি জেলা রাজবাড়ী। মুড়িকাটা ও হালি দুই ধরনের পেঁয়াজই চাষ হয়ে থাকে এ জেলায়। বাজারে দাম ভালো থাকায় হালি পেঁয়াজ চাষে কৃষকের আগ্রহ আরো বেড়েছে । হালি পেঁয়াজের চারা রোপণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ১৪ শতাংশই রাজবাড়ী জেলায় উৎপাদিত হয়ে থাকে। সারাদেশের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩৬৩ হেক্টর জমি বেশি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে বালিয়াকান্দি উপজেলায়।

উপজেলার ১০ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে পেঁয়াজ। আর গোয়ালন্দ উপজেলায় সবচেয়ে কম ২৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে পেঁয়াজ। এছাড়া পাংশা উপজেলায় ৯ হাজার ২৮০ হেক্টর, কালুখালী উপজেলায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ২ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

Advertisement

রাজবাড়ী সদর ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা শেষ হয়েছে। কিছু জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আবার কিছু জমিতে  পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন শ্রমিকরা। 

পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত চাষি

কালুখালী উপজেলার দূর্গাপুর এলাকার পেঁয়াজ চাষি চৈতন্য সরকার জানান, এ বছর তিনি এক একর ৩০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করবেন। এখন পর্যন্ত অর্ধেক জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। তিনি আট হাজার টাকা কেজি দরে পেঁয়াজের দানা ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু বীজ নষ্ট থাকার কারণে তার সম্পূর্ণ জমির চারা উৎপাদন হয়নি। এখন বাকি জমির চারা কিনে রোপণ করবেন তিনি। 

সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষি মো. শামসুল আলম বলেন, আগে এসব জমিতে গম ও মসুর ডাল আবাদ করতাম। তাতে খুব একটা লাভ থাকতো না। পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ  চাষ করছি। এক পাকি (২৬ শতাংশ) জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ভালো হলে পাকিতে ৫০ থেকে ৬০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন বাজারে যে দাম রয়েছে এভাবে থাকলে লাভ হবে।

পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত চাষি

শিল্পী রানী দাসসহ আরো ১৫ জন শ্রমিক পেঁয়াজ রোপণের কাজ করছেন। এরমধ্যে শান্তি রানী দাস বলেন, আমরা পেশায় জেলে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। এখন নদীতে মাছ না থাকায় আমরা পেঁয়াজ রোপণের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি। অন্য ফসলের থেকে পেঁয়াজ চাষে বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষক। পেঁয়াজের জমিতে পাট ও ধান খুব ভালো হয়। এছাড়া এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ কারণেই জেলায় পেঁয়াজের আবাদ দিনদিন বাড়ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!