বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ তথ্য জানিয়েছেন গাজীপুর পিবিআইর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান। গ্রেফতারকৃত রাসেল আহম্মেদ সোয়াদ বাসান থানাধীন টেকনগপাড়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। নিহত কিশোর বকুল গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকার সাজ্জাদ মিয়ার ছেলে।
পিবিআইর পুলিশ সুপার (এসপি) মাকছুদের রহমান বলেন, গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকার এক বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই সন্তান বকুল (১৭) ও বাদলকে (৭) নিয়ে ভাড়া থেকে এলাকায় রিকশা চালাতেন সাজ্জাদ মিয়া। তার স্ত্রী স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন। গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে দুই সন্তানকে বাসায় রেখে নিজেদের কাজে চলে যান ওই দম্পতি। এরপর সকাল ১০টার দিকে খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বকুল। বিকেলে সাজ্জাদ মিয়া ও তার স্ত্রী বাসায় ফিরে বকুলকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
.png)
তিনি আরো জানান, পরদিন সকালে স্থানীয় পেয়ারা বাগান এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে বকুলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাসন থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ নাজমুল ও নাঈমসহ সোয়াদকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার নাজমুল এরমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও থানা পুলিশ এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই গাজীপুরকে দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন খান তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সোয়াদকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বুধবার (১০ জানুয়ারি) আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে বকুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অপর হত্যাকারীসহ নিজেকে জড়িয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সাড়ে পাঁচ মাস পর চাঞ্চল্যকর কিশোর বকুল হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে।
পিবিআইর এই কর্মকর্তা আরো জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বালু মাঠে বাজিতে মারবেল খেলছিল বকুল ও নাঈম। এ সময় তাদের মাঝে ঝগড়া ও মারামারি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন নাঈম। এ ঘটনার জেরে নাঈম তার এক বন্ধুসহ সোয়াদ ও অটোচালক নাজমুলের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যার পর বকুলকে অটোরিকশায় তুলে বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে বকুলকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে মারধর করেন তারা। একপর্যায়ে বকুলের পা চেপে ধরেন সোয়াদ। এ সময় নাঈম গলা-মুখ চেপে ধরলে মারা যান বকুল। পরে মরদেহ পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে পালিয়ে যান তারা।