তিনি গোমতী ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছিলেন। জনপ্রতিনিধিত্ব ছেড়ে কৃষিকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
সমতল হওয়ায় পানি জমে থাকার সম্ভাবনা থাকে না বিধায় এসব জমিতে বরই চাষে ভালো ফসল পাওয়া যায়। এ জমিতে বিগত বছরগুলোতে তিনি তামাক চাষ করতেন।
.png)
বিষবৃক্ষ তামাক চাষের ক্ষতি এড়াতে তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করতে উদ্যোগী হয়ে এবার তামাকের জমিতে বরই চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। ছোট ছোট খোপের সাদা জাল বেষ্টিত দৃষ্টিনন্দন বরই বাগান দেখতে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। বাগানের ভেতরে ডুকতে না পারলেও বাহির থেকে দেখে তৃপ্তি মিটছে অনেকের। স্বাদ ও পুষ্টিতে মৌসুমি ফল বরই একটি উৎকৃষ্ট মানের ফল। মানব দেহের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য ও ভিটামিনের উৎস হচ্ছে বরই।
সরেজমিন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার গোমতী ইউপির মাহবুব মেম্বার পাড়ায় নিজস্ব আড়াই একর জমিতে শীতের হালকা বাতাসে সোনালী হলুদ আভার বল সুন্দরী বরই দুলছে বাগানে। প্রতিটি গাছে গাছে দুলছে কাশ্মীরীকুল। বাগান থেকে বরই সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত কেফায়েতসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক। বাদুড়, কাঠবিড়ালী ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বাগানের উপরিভাগ থেকে চারদিকে নেট ও চারপাশ তারকাঁটা দিয়ে ঘেরাও দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বাগানের অভ্যন্তরে উৎসুক জনতার দেখা মিলছে, তারা বাগান থেকে সতেজ বরই ক্রয় করতে এসেছে। তাদের হৈ হুল্লোড়ে আর আনন্দ চিৎকারে পুরো বাগান যেন মুখরিত।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে গাছ লাগানো শুরু করেন কৃষি উদ্যেক্তা মাহমুদ মেম্বার। বরই সুন্দরী, বাউকুল, আপেল বরই, কাশ্মীরীকুল মিলে ৮৫০ টির চার প্রজাতির বরই গাছ রয়েছে এ বাগানে। প্রতিদিন ১০-১২ জন শ্রমিক এ বাগানে কাজ করে তাদের সংসার চালায়। মাহবুব তার ছেলে ও নাতিসহ তিন প্রজন্ম মিলে গড়ছেন বাগানটি। মাহবুব মেম্বারের ছেলে খাগড়াছড়িতে চাকরি করেন একই সঙ্গে তার নাতি কেফায়েত কুমিল্লা দেবিদ্বার সুজাত আলী কলেজে অনার্স পড়ুয়া। কৃষিকে ভালোবেসে কেফায়েত পড়াশোনার পাশাপাশি এ বাগান পরিচর্যা করেন।
মাহবুব মেম্বার বলেন, এ জমিটি আমার নিজের। আগে আমি এ জমিটি তামাক চাষের জন্য লিজ দিতাম। তামাকের ক্ষতিকর দিক লক্ষ্য করে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে নিজ উদ্যেগে এ জমিতে বরই বাগান করি। আমার বাগানে পর্যাপ্ত পরিমাণে বরই এসেছে। আগামীতে ফলন আরো ভালো হবে বলে আশা করছি। গাছ প্রতি ১২-১৩ কেজি বরই এসেছে। প্রতি কেজি বরই জাতভেদে ১২০ থেকে টাকা থেকে ১০০ টাকা করে পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বছর থেকে বরইয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। আর এভাবে টানা ৫-৭ বছর পর্যন্ত ফল বিক্রি করা যাবে। পুরো বাগানে খরচ লেগেছে ৪ লাখ। সে হিসেবে এ বছর ১০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
কেফায়েত বলেন, ছোট বেলা থেকেই কৃষির প্রতি আমার আলাদা ভালো লাগা ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরির পেছনে দৌড়ে অলস সময় নষ্ট না করে কৃষিতে সময় দিলে বেকারত্ব ঘুচবে একই সঙ্গে কৃষি নির্ভর দেশ কৃষিতে সমৃদ্ধ হবে।
বরই কিনতে আসা আরিফ হোসেন বলেন, সরাসরি বাগান থেকে বরই ক্রয় করতে এসেছি। প্রাকৃতিক এবং ভেজালমুক্ত বিধায় বেশি করে বরই আত্মীয়ের বাড়ি পাঠাবো।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, তামাক ছেড়ে বরই চাষে কৃষক মাহবুবের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তামাকের জমিতে এভাবে বরইসহ অন্যান্য লাভজনক কৃষি পণ্যের আবাদ করা হলে পরিবেশের ক্ষতি এড়িয়ে কৃষক লাভবান হবে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী বলেন, রৌদ্রুজ্জ্বল, উচুঁ জমিতে বরই বাগান ভালো হয়। যে বাগানে যত বেশি রোদের আলো লাগবে সেই জমির বরই বেশি মিষ্টি। তাছাড়া বরই গাছে তুলানামূলক রোগ-বালাই কম হয়। নতুনভাবে কেউ বরই বাগান করতে চাইলে তাকে অবশ্যই সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।