ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মানুষকে ভালোবেসে বাড়িতে মৌমাছির বসবাস

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩০, ২৬ জানুয়ারি ২০২৪
মানুষকে ভালোবেসে বাড়িতে মৌমাছির বসবাস
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচগাছী গ্রামের বাসিন্দা হবিবর রহমান বাড়িতে একটি-দুটি নয় ১৫টি চাক বেঁধেছে মৌমাছির দল। দেখে যে কারো মনে হতে পারে এ যেন পোষা পতঙ্গ। তবে না, বিপদে পড়েই মানুষকে ভালোবেসে ফেলেছে মৌমাছির দল।

জানা গেছে, ১৪টি চাক বারান্দায় ও আর একটি সিঁড়ির ওপরে। হাজার হাজার মৌমাছি ভোঁ ভোঁ করে উড়ছে, চাকে বসছে, আবার মধু আহরণের জন্য বেরিয়ে পড়ছে। আর মৌমাছির এসব চাকের নিচ দিয়েই চলাচল মানুষের। বাড়ির নারীরা রান্নার কাজও করেন বারান্দায়। কখনো চাকে হাত বুলিয়ে দিলে বা আচমকা মাথা কিংবা হাত লাগলেও কোনো ক্ষতি করে না মৌমাছিরা।

হবিবর রহমান পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তাকে অনেকেই হবু হাজী বলে চেনেন।

Advertisement

এ ব্যাপারে হবিবর রহমান জানান, ১৫ বছর আগে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১০ বছর ধরে বাসার বিভিন্ন পাশে মৌমাছি বড় বড় চাক লাগায়। কিন্তু এর আগে একটি বড় চাকে বাজপাখি এসে আঘাত করায় মধুসহ অনেক মাছি নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর মৌমাছিগুলো অন্য কোথাও না গিয়ে আমি যেখানে থাকি সেই বারান্দা, ঘরের দরজার সামনে এসে নতুন করে চাক করেছে। এখানে প্রায় ১৫টির মতো চাক আছে। মৌমাছি দেখে অনেকেই ভয় পায়। আমরা অনেক সময় শুনি মৌমাছির কামড়ে মানুষ, গরু-ছাগল মারা যায়। কিন্তু একই বরান্দায় আমাদের চলাফেরা করা, আবার রান্নার কাজ করার পরেও এতগুলো চাকের মৌমাছি কোনো ক্ষতি করেনি। বাসার বাচ্চা বা অন্য মানুষ আসলে তাদের কামড় দেয় না। এসব চিন্তা করে তাদের কিছু করিনি।

তিনি আরো জানান, পোষা কুকুর যেমন বাড়ির মানুষকে চেনে ঠিক এরাও আমাকে চেনে। যখন দেখা যায় চাকে মধু হয়েছে, তখন সেখানে হাত দিলে মৌমাছিগুলো সরে যায়। দেখা যায় অনেক মধু, কেটে নেয়া যাবে। কিন্তু আমি মধু কেটে নিই না। মধু কাটার জন্য মানুষ আসলে তাদের না করে দিই। এরা যতদিন আমার বাসায় বসবাস করবে আমি তাদের মধু কাটবো না। শীত মৌসুমে খুব কুয়াশা লাগলে এরা চাকে বসবাস করে, বাইরে যায় না। আবার রোদ উঠলে তারা বাইরে যায় মধু আনার জন্য। আমরা মৌমাছির সঙ্গে একই জায়গায় বসবাস করি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। আমিও তাদের কোনো ক্ষতি করিনি।

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ফুল জাতীয় ফসলের জন্য মৌমাছি কাজ করে। তারা মধু সংগ্রহ করে পরাগায়ন ঘটায়। এতে ফসল ভালো হয়। দিনদিন মৌমাছির সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ফসলে পরাগায়ন হচ্ছে না। তবে এসব মৌমাছিকে বিরক্ত না করলে তারা কিছু করে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: জয়পুরহাট
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!