ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাগনেকে গলাকেটে হত্যা, গ্রেফতার ৬

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৪
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাগনেকে গলাকেটে হত্যা, গ্রেফতার ৬
গ্রেফতারকৃতরা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে আপন ভাগনেকে গলাকেটে হত্যার পরিকল্পনা করেন হাবিবুর রহমান হবি। তার পরিকল্পনাতেই ছেলে ও দুই ভাতিজা মিলে ভাগনে  শাহ কামাল ওরফে কদি মিয়াকে গলাকেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান, তার ছেলে, স্ত্রী, ভাই এবং দুই ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) দিদারুল ইসলাম।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে তৎকালীন যোগনীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কৃষক ইদ্রিস আলী (৩০)। এরপর নালিতাবাড়ীর থানার তৎকালীন ওসি আবুল খায়ের আগ্নেয়াস্ত্র এবং হত্যা এ দুই মামলায় পৃথক চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসেন।

Advertisement

এদিকে, নিহত ইদ্রিস আলীর বাবা ফজল মিয়ার সঙ্গে হাবিবুর রহমানের ভাগনে দিনমজুর শাহ কামালের বন্ধকি ১১ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ ও বিচার-শালিস চলছিল। এ বিরোধকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে ভাগনেকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ ফজলকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা করেন হাবিবুর রহমান। এ পরিকল্পনায় অংশ নেন হাবিবুর রহমানের সহোদর হারেজ আলী ও স্ত্রী আমেলা খাতুন ঝর্ণা।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ ঘর থেকে স্থানীয় গড়াকুড়া বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন দিনমজুর শাহ কামাল। গড়াকুড়া বাজার থেকে মোস্তফা শাহ কামালকে ডেকে হাবিবুর রহমানের পরিত্যক্ত বাড়িতে পাঠান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা সারোয়ার জাহান শান্ত ও রাহুল শাহ কামালকে চেপে ধরেন। মোস্তফা ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেন তাকে। পরে জমাট বাঁধা রক্ত পরিষ্কার করে কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে লাশ খালের পাশে নিয়ে ফেলে দেন তারা। এছাড়া কম্বল পুড়িয়ে বাড়ির পাশের বাঁশ ঝাড়ে ফেলে রাখেন তারা।

কামাল গভীর রাত হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী শেফালী স্বজনদের ফোন করে খোঁজ নিতে থাকেন। তবে স্বামীর সন্ধান পেতে ব্যর্থ হন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঐ খাল পাড়ের বাসিন্দা রনি মিয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হন। এ সময় শাহ কামালের গলাকাটা লাশ দেখে ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তদন্তকালে হাবিবুর রহমান হবির বসতঘর তল্লাশি করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, জামা-কাপড় ও জুতা উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় পরিকল্পনাকারী হাবিবুর রহমান হবি (৫৫), তার ছেলে সারোয়ার জাহান শান্ত (২৬), তৃতীয় স্ত্রী আমেলা খাতুন ঝর্ণা (৪২), সহোদর হারেজ আলী (৫৮), ভাতিজা মোস্তফা (৩০) এবং রাহুলকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। রাতেই নিহত শিকার শাহ কামালের মা অছিরন বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যায় সরাসরি জড়িত তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!