ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লক্ষ্মীপুরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ টন

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৫:৪৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২৪
লক্ষ্মীপুরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ টন
ধান আবাদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরে বিগত বছরের তুলনায় ইরি বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। সরকারিভাবে যথাসময়ে বীজ সার ও কীটনাশক ওষুধ পাওয়ায় খুশি তারা। এ বছর জেলায় এক লাখ ৫৪ হাজার ১৫৯ টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

বিগত বছরের তুলনায় এবার ৫০৯ হেক্টর জমি বেড়েছে। চলতি মৌসুমে ইরি বারোর মোট জমি ৩৫ হাজার ৮০৯ হেক্টর। যেখানে গত বছর ছিল ৩৫ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমি। ফলে চাষকৃত জমির পরিমাণ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।

এ বছর এক লাখ ৫৪ হাজার ১৫৯ টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটি গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার টন বেশি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. জাকির হোসেন।

Advertisement

তিনি জানান, ধানের উৎপাদন বাড়াতে এবার কৃষকের মাঝে যথাসময়ে সরকারিভাবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। সেচ পাম্প ও গভীর নলকূপগুলোয় আগেভাগে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে জেলার ৭০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাকি কৃষক তাদের জমিতে ধান চাষ শেষ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি অধিদফতরের তথ্যমতে- জেলা সদর, রামগতি, কমলনগর, রামগঞ্জ ও রায়পুরে জেলায় হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের চাষ হচ্ছে ১৬ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান ৪ দশমিক ৮২ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪ দশমিক ৮০ টন। এবার জেলায় হাইব্রিড ধান উৎপাদন হবে ৮০ হাজার ৫৪২ টন, যা গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৭৮ হাজার ৭৬৮ টন। এছাড়া উফশী জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ দশমিক ৯৬ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এবার জেলায় ৭৩ হাজার ৬১৬ টন উফশী জাতের ধান উৎপাদিত হবে। গত বছর জেলায় প্রতি হেক্টরে উফশী জাতের ধান উৎপাদন হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৫ টন হারে ৭২ হাজার ৬০৫ টন। সবচেয়ে বেশি বড় আবাদ হয়েছে সদর ও রামগঞ্জে।

ধানের চারাসবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পাশাপাশি যথাযথভাবে সেচ, সার ও কীটনাশক দেওয়া গেলে জেলায় এবার এক লাখ ৫৪ হাজার ১৫৯ টন ধান উৎপাদন হবে।

জেলার বিভিন্ন বোরো আবাদকৃত এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা কোথাও ধান লাগাচ্ছেন কোথাও পানি সেচ দিচ্ছেন আবার কোথাও কীটনাশক সার প্রয়োগ করছেন। মাঠে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কৃষকরা বলছেন, সরকারিভাবে যত সময়ে বীজ ও সার কীটনাশক পেয়েছেন এবং সময়মতো গাছ লাগিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করা যাচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এতে কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।

কৃষি সমবায় সমিতির নেতারা বলছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় বোরো চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন তারা। তাদের সমিতির অধীনে নলকূপগুলো যথাসময়ে চালু করায় বোরো ধান চাষ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, সবচেয়ে বেশি বোরো চাষ হয় লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জ উপজেলায়। সমিতির অধীনে নিবন্ধিত ৩০০ কৃষি সমিতি রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সমিতির অধীনে বর্তমানে নয়টি গভীর নলকূপ রয়েছে। প্রতিটি নলকূপ সমিতির মধ্যস্থতায় এবার আগেভাগেই চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সমিতির পক্ষ থেকে কৃষকদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধও করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!