কৃষি অধিদফতর সূত্র জানায়, কম খরচে ভুট্টার ফলন অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাই ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। তাছাড়া কেনো ধরনের পোকার আক্রমণ বা অন্য কোনো রোগবালাই না থাকার ফলে ভুট্টা চাষের চাহিদা বাড়ছে।
জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলায় ২০ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১৮ হাজার হেক্টর ভুট্টা চাষের নির্ধারণ করা হয়।
.png)
সূত্র জানান, যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের মাটি ভুট্টা চাষে উপযোগী এবং ভুট্টা চাষ কম খরচে বেশি লাভের ফসল। হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষক রুবেল মিয়া সাত বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। গেল বছর লাভবান হওয়ায় এ বছর আরো বেশি করে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ভুট্টা গাছে এখন থোর বেরুচ্ছে। এখন একটু বেশি পানি টানে। তাই পানি ও সার দিলাম।
জামালপুর সদরের কৃষক কামাল উদ্দিন জানান, ভুট্টা চাষে ঝামেলা খুবই কম। ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ। ভালো ফলন হলে বিঘায় প্রায় ৩০-৫০ মণ ভুট্টা হয়। গত বছর ভুট্টা বিক্রি করা হয়েছে ১২শ থেকে ১৩শ টাকা মণ দরে। তাই এ বছর আরো বেশি করে চাষ করেছেন তারা।
সরেজমিনে সরিষাবাড়ীর আওনা, কুলপাল ও ঘুইঞ্চার যমুনার চরের বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, কৃষকরা এসব স্থানে সবাই কম বেশি আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করেছেন।
ভুট্টাচাষি ইসমাইল, আবুল কালাম ও সাইফুল ইসলাম জানান, ভুট্টা চাষ চরাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। গত বছর যমুনার চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে ভুট্টা চাষ করে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে। এ বছর অধিক পরিমাণ আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতেই সেচও দেওয়া হচ্ছে। ভুট্টার জমিতে কখনো মাটি শুকাতে দেওয়া যাবে না। সার ও পানি ঠিক মতো দিতে পারলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়। ভুট্টা চাষে কোনো ক্ষতি নেই, পুরোটাই লাভ। তাছাড়া ভুট্টার পাতা গো-খাদ্যের সংকট দূর করে ডাটা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় কৃষক ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে আবাদ করছেন।
কৃষক আমজাদ মিয়া জানান, প্রতিবিঘা জমিতে চাষ, বীজ,সেচ, সার ও কীটনাশক এবং পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকার মতো। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন হয় ৩৫ থেকে ৫০ মণ। আগামজাতের মণপ্রতি ভুট্টা ১ হাজার ৪শ টাকায় বিক্রি করা যায়।
আব্দুল বারিক বলেন, ভুট্টা অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক। আমি ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এই ফসলের তেমন কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। কাটা মাড়াই মেশিনে করায় খরচ আরো কমেছে। যে কারণে চরাঞ্চলের কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।
ভুট্টা চাষি বেলাল মিয়া বলেন, বালু জমিতে ভুট্টা ছাড়া অন্য ফসল হয় না। ভুট্টা লাভজনক তাই সকলেই ঝুঁকে পড়ছেন ভুট্টা চাষে।
জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, এ বছর জামালপুর জেলার সাত উপজেলায় ২০ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। গত বছর ছিলো ১৮ হাজার হেক্টর। পতিত জমিতে স্বল্প সময় এবং স্বল্প খরচে লাভজন হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চরাঞ্চলে কৃষকরা।