ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জেগে ওঠা চরে বাদাম চাষে সমৃদ্ধির ঝিলিক

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১৫:০৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
জেগে ওঠা চরে বাদাম চাষে সমৃদ্ধির ঝিলিক
গাইবান্ধায় জেগে ওঠা চরে বাদাম চাষ

উত্তরের নদী বেষ্টিত এলাকার অন্যতম জেলা গাইবান্ধা। এ জেলায় চারটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলে ১৬৫টি চর ও দ্বীপচর রয়েছে। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, সুন্দরগঞ্জের তিস্তা, ফুলছড়ি ও সাঘাটা যমুনার নদী পানি শুকিয়ে জেগে উঠছে অসংখ্য চর। এসব বালুচরে অনেক আগে থেকেই বাদাম চাষ করে আসছেন চাষিরা। তবে আগের তুলনায় এবারে অনেক বেশি বাদাম চাষে ঝুঁকছেন তারা।

গেল বছর বাদামের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বাদাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। তাছাড়া উজানের পাহাড়ি ঢলে জমিতে পলি পড়ায় এ বছর বাদাম চাষ গত বছরের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি চর ঘুরে দেখা গেছে, ধু ধু বালুচর সবুজে ছেয়ে গেছে। চারিদিকে শুধু বাদামের চাষ। সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিদাই, বাজে চিথুলিয়া, কড়াইবাড়ি, বাটিকামারি, হাঁস ধরা, চিথুলিয়া দীঘরসহ বিভিন্ন চরে ব্যাপক বাদামের চাষ হয়েছে। এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার এড়েন্ডাবাড়ীর, আলগা, জিগাবাড়ি, গাবগাছি, খাটিয়ামারির চর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লাটশাল্লা, কাপাসিয়াচর, বালাসেরা, কাজিয়ার চরাঞ্চলেও বাদাম চাষ হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, আগে চরাঞ্চলে মিষ্টি আলু ও সবজি ছাড়া কিছুই চাষ হতো না। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে উত্তরের উজানের ঢলে নেমে আসা পলিতে বাদাম চাষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই চলাঞ্চলের কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন। শুধু তাই নয়, খুব কম সময়ে বাদাম চাষ করে লাভবানও হচ্ছেন তারা।

প্রতিবছর বন্যা-পরবর্তী সময়ে জেগে ওঠা পলি মাটির চরে বসবাস করা মানুষরা বাদাম চাষ করেন। খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়ে থাকে তাদের। বাদাম ক্ষেত থেকে আগাছা কেটে তাদের গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। এছাড়া অন্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে তেমন একটা সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। বীজ রোপণের আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যেই বাদাম তুলে সংগ্রহ ও হাট-বাজারে বিক্রি করা যায়।

সদর উপজেলার ইউনিয়নের সিদাই চরের বাদাম চাষি মতিন মিয়া বলেন, আমি বেশ কয়েক বছর ধরে বাদাম চাষ করে আসছি। গত বছর ভালো দাম পাওয়ার এবার ৭ বিঘা জমিতে বাদাম লাগাইছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবারো ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।

ফুলছড়ি উপজেলার অ্যারেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের জিজ্ঞাসাবারী চরের কৃষক রাজু মিয়া জানান, অল্প খরচে বাদাম চাষ করা যায়। অন্য্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ দ্বিগুন। প্রতি একরে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। বাদাম তুলে শুধু রোদে শুকিয়ে অনেকদিন রাখা যায়। তাছাড়া বাদাম সারাবছরই বিক্রি করা যায়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর চরিতাবাড়ী গ্রামের কৃষক ফুলমিয়া বলেন, নদী ভাঙনে দিশেহারা মানুষ আমরা। ধানের চেয়ে গত কয়েক বছর ধরে বাদামেই বেশি লাভ হচ্ছে। তাই অনেক কষ্ট করে তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, গাইবান্ধা সদরসহ চার উপজেলার বিভিন্ন চরে ৭৫ হেক্টর জমিতে এবার বাদামের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের মধ্যে বিনামূল্যে বাদামের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। বাদামের ভালো ফলনের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে বাদাম চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!