মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তাদের বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বান্ধবী লিজাকে জেলহাজতে পাঠান বিচারক বেগম সুমাইয়া রিজভী মৌরী। আর লিজাকে ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে যেতে আপত্তি জানালে কলেজছাত্রী মিমকে পাঠানো হয়েছে সেভ হোমে। এমন ঘটনায় বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কলেজছাত্রী মিম বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী সহিদুল ইসলামের মেয়ে।
মিম আক্তারের পরিবারের দাবি, লিজা তার মেয়েকে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে রেখেছে। লিজার সঙ্গে কেন যাবে, তা জানতে চাইলে মিম অস্বাভাবিক জবাব দিত বলে জানান তার ভাই নাঈম হোসেন।
.png)
মিমের বোন ফাতিমা জানান, তার বোনের ঢাকার হাজারিবাগ এলাকার শংকর জাফরবাদ ২৮৩/১ এর ইসলাম মঞ্জিলের মোজাম্মেল হকের মেয়ে লিজার ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম হয়। পরে কোনো ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হতো না মিম। বরং রোবার লিজাকে বিয়ে করবে বলে বায়না ধরে।
আর এজন্য পাঁচ বছর আগে বিয়ে হওয়া স্বামীকেও তালাক দেয় মিম। কয়েক দিন আগে মিমদের বাড়িতে বেড়াতে যান লিজা। এরপরেই লিজার সঙ্গে পালিয়ে যায় মিম। তখন পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার হয় মিম। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবারো পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয় তারা। কিন্তু হাল ছাড়েননি মিম আর লিজা। অবশেষে চলতি বছরের গত ২৫ জানুয়ারি পুনরায় লিজার সঙ্গে পালিয়ে যায় মিম।
এ ঘটনায় মিমের মা জিয়াছমিন বাদী হয়ে আদালতের সহযোগিতায় মুলাদী থানায় লিজাসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে মিম ও লিজাকে গ্রেফতার করা হয়।
মুলাদী থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সোমবার অভিযান চালিয়ে হাজারীবাগ এলাকা থেকে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধার এবং লিজা খান নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে কিশোরী মিমকে পাঠানো হয়েছে সেফ হোমে ও গ্রেফতারকৃত লিজাকে আদালত থেকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।