মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার লোকনাথপুর সহশিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
লিখিত এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার লোকনাথপুর সহশিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় ডুগডুগি গ্রামের মিনাল হোসেনের ছেলে হাফিজসহ (১৭) ৬-৭ অজ্ঞাত যুবক বিদ্যালয়ে অনাধিকার প্রবেশ করে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন।
.png)
স্থানীয় ও বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বহিরাগতদের বিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে ধূমপান করতে বলায় উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় বহিরাগতরা বাইরে চলে যান। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারো বিদ্যালয় চত্বরে এসে অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালান তারা। এতে আবারো স্থানীয় ও অনুষ্ঠানের অতিথিদের সঙ্গে মারপিটের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বহিরাগতরা সবাই পালিয়ে গেলেও অভিযুক্ত হাফিজকে ধরে ফেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা। তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বহিরাগতদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাতে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ এবং হাফিজকে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে লোকনাথপুর সহশিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতিমা দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
দামুড়হুদার হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিকাত আলী বলেন, বিদায় অনুষ্ঠানে বহিরাগত কয়েক যুবক এসে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে থাকেন। স্থানীয় যুবক অনিকসহ কয়েকজন তাদের বিদ্যালয়ের ভেতরে ধূমপান করতে নিষেধ করলে উভয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লোকনাথপুর স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক কানিজ ফাতেমা বাদী হয়ে একজনকে নামীয় আসামিসহ অজ্ঞান ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এজাহার নামীয় আসামি হাফিজকে আটক করা হয়েছে। অজ্ঞাতদের আটকে তৎপর রয়েছে পুলিশ।