ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাখির প্রতি গোলজারের ভালোবাসা

এবিএম আতিকুর রহমান আতিক, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১২:৪৩, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
পাখির প্রতি গোলজারের ভালোবাসা
রাস্তায় খাবার ছিটিয়ে পাখিগুলো খাওয়াচ্ছেন গোলজার

পৃথিবীতে অনেক ভালো মানুষ এখনো বেঁচে আছে। আবার খারাপ লোকেরও অভাব নেই। ভালো মানুষগুলো এখনো অনেকেই বেঁচে আছে বলে পৃথিবী এতো সুন্দর। প্রকৃতির পূর্ণতা দান করেছে পাখি ও উদ্ভিদ। পাখি ছাড়া প্রকৃতির সৌন্দর্য একেবারেই বেমানান। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব বেশি দরকার পাখির অভয়ারণ্য তৈরি।  

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চর চতিলা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোলজারের রুটি-পরোটার দোকানের সামনে শুরু হয় পাখির কিচিরমিচির শব্দ। তীব্র শীতের সকালেও টিনের চালে ও গাছের ডালে খাবারের অপেক্ষা করতে থাকেন কয়েকশত শালিক, টুনটুনি, বুলবুলি ও কাকসহ দেশীয় প্রজাতির পাখি।

পার্শ্ববর্তী হাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. গোলজার হোসেন। ফজর নামাজ আদায় শেষে দোকান খুলেই আগেরদিনে রেখে যাওয়া রুটি পরোটা ও ময়দা রাস্তায় ছিটিয়ে দিতে থাকেন। এতে পাখিগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে  এসে খাওয়া শেষে চলে যায়।

Advertisement

গোলজার হোসেন বলেন, শীতকালে ২৫০-৩০০ পাখি প্রতিদিন ভোরে অপেক্ষা করে খাবারের জন্য। গরমকালে এর পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। ওদের জন্য আগের দিন ১৫-২০টি রুটি রেখে দেই। এতে না হলে ময়দা গুলানো থাকে সেগুলো দেই। মাসিক পাঁচ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হলেও এগুলো আমার লোকসান মনে হয় না বরং ভালোবেসে খাবার দেই। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে অন্যজনের কাছে খাবার রেখে যাই পাখিদের খাওয়ানোর জন্য।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এভাবেই নিয়মিত খাবার দিয়ে থাকেন তিনি। পাখিকে খাবার দিতে দেখে আমরাও আনন্দিত হই। পাখিগুলোর কেউ কোনো ক্ষতি করে না।

অটোচালক শামীম হাসান জানান, প্রতিদিন ভোরে তিনি পাখিকে রাস্তায় খাবার দেন। পাখি খাওয়ার সময় পথচারীরা সাবধানে ভ্যান, রিকশা ও সাইকেল চালিয়ে যায়। 

চর চতিলা বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত ফজর নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফেরার সময় ঝাঁকবেঁধে শতাধিক পাখিকে খাওয়াতে দেখি। এতে দেখতেও খুব সুন্দর লাগে। এটা সওয়াবের কাজ। দীর্ঘদিন ধরেই গোলজার হোসেন পাখিকে খাবার দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বৃক্ষপ্রেমী ডা. আবু সাঈদ বলেন, নিয়মিত পাখিকে খাবার দেওয়া নিশ্চয়ই প্রাণিকূলের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তবে পরিবেশ রক্ষায় পাখির অভয়ারণ্য তৈরি করা জরুরি দরকার। পাখিরা মুক্ত আকাশে মুক্তভাবে উড়বে এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম। এই সুযোগ আমাদের করে দিতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!