ছেলের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সময় বাবা মহিন মিয়াও (৪০) দগ্ধ হয়েছেন। পুলিশ তাকে আটক করে চিকিৎসা দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ সকালে সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ভাড়ারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
.png)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তুহিন সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় দিনমজুর বাবা মহিন মিয়া আকস্মিকভাবে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। শিশুটি দৌড়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে তারা পানি ঢেলে আগুন নেভান। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের অন্তত ৬০ ভাগ অংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মহিন মিয়াকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। দগ্ধ তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হয়।
জানা গেছে, মহিন মিয়ার স্ত্রী শিউলি বেগম বছর খানেক আগে সৌদি আরবে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মাসে তিনি বাড়িতে এসে ঐ ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে সংসারে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে বাবা-ছেলের খুব কষ্টে দিন কাটছিল। আটকের পর মহিন স্থানীয়দের জানান ছেলেকে পুড়িয়ে মারার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী জানান, মহিন মিয়া একজন মাদকসেবী। প্রায়ই তার শিশু ছেলেকে মারধর করতেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দগ্ধ ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত মহিন মিয়াও দগ্ধ হয়েছেন। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পারিবারিক কলহ ও হতাশা থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।