ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৪, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের ৩ যুবকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১
ছবিতে মামুন শেখ ও সজল বৈরাগী (ডানে)

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় মাদারীপুরের তিন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরো একজন। শুক্রবার তিন যুবকের মৃত্যুর খবর আসলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আদরের সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। তাদের সন্তানরা আর কোনোদিন ঘরে ফিরবে না, এই শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। আজাহারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনায় দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম পাঁচখোলা গ্রামের আলি আক্কাবরের ছেলে মো. সম্রাট (২৪) ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারি দিয়েছিলেন ইতালির পথে। মাস পাঁচেক আগে রাসেদ খান নামে এক দালালের সঙ্গে চুক্তি হয় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার। এ সময় সম্রাটের পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নেন দালাল। এরপর লিবিয়ার একটি বন্দি শিবিরে আটকে রাখেন। চালানো হয় নির্যাতন। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। এরপর হঠাৎ করেই খবর আসে সম্রাট মারা গেছেন।

Advertisement

সম্রাটের ভাই আজগর বলেন, কতোগুলো টাকা খরচ করে ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন আমার ভাই নাই। সে মারা গেছে। এখন টাকাও গেল ভাইও গেল। দালাল বলেছে, লাশ এনে দেবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালাল রাসেদ খান ও তার ভাই টুলু মাদারীপুরের বিভিন্ন সহজ সরল মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি নেয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে। তার বিরুদ্ধে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২০) ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগীসহ (২৫) বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। পরে গত বুধবার লিবিয়া থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রওনা দেন তারা। ৩২ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নৌকায় ৫২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে মামুন ও সজলসহ মারা যান ১২ জন। পরে খবর পেয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড। এছাড়া এখনো নিখোঁজ পার্শ্ববর্তী গোহালা ইউনিয়নের পান্নু শেখের ছেলে আপন শেখ।

মামুন শেখের মৃত্যুতে তার স্বজনদের আহাজারিনিহত মামুন শেখের বড় ভাই সজিব শেখ ও নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনীল বৈরাগী জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের বাদশা কাজীর ছেলে মোশারফ কাজী। তিনি প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেন ১৩-১৫ লাখ টাকা। পরে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি পাঠালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  সরকারিভাবে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত দালাল মোশারফ কাজী দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া বসবাস করছেন। তার ছেলে যুবরাজ গ্রাম থেকে ইতালি পাঠানোর জন্য যুবকদের সংগ্রহ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রাজৈর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার আসাদ জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি এএইচএম সালাহউদ্দিন বলেন, মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। মামলা হলে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে। কিন্তু পরে আবার বাদীদের সঙ্গে আপোষ-মিমাংসা করে ছাড়া পেয়ে যান। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!