বৃহস্পতিবার রাতে সাগর থেকে তীরে আসার পথে পটুয়াখালীর গলাচিপার পানখালীর দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম নামে একজনকে আটক করেছে। আটককৃত ইব্রাহিম বরগুনার তালতলী অঙ্কুজান এলাকার সুলতানের ছেলে।
নিহত রাশাদ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে। আহত জামাল একই এলাকার বাসিন্দা।
.png)
জানা যায়, নামবিহীন ঐ ট্রলারের মালিক রাশাদ। রাশাদসহ তিন জেলে সাগরে মাছ কিনে তীরে এসে বিক্রি করেন। এ চালানে মাছ বেশি থাকায় তা লুট করার জন্য ট্রলারের মালিক রাশাদকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় অপর জেলে জামাল রাশাদকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে জামাল নদীতে ঝাঁপিয়ে জীবন রক্ষা করেন।
পরে অভিযুক্ত ইব্রাহিম ট্রলার ও মাছ নিয়ে এসে পাথরঘাটা ঘাটে বিক্রি করেন। ঐ মাছের কিছু অংশ কিনে নেন বাচ্চু আড়তদার। বাকি মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফ কিনতে কেবি-রুপালী বরফ কল ঘাটে জনতার হাতে ধরা পড়েন ইব্রাহিম। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পাথরঘাটা মৎস্য আড়ত সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর জোমাদ্দার জানান, মাছ উঠাতে একটা বরফ মিলে গিয়েছিলেন ইব্রাহিম। শুনেছি একজনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়ে ট্রলার ডাকাতি করে আনা হয়েছে। ট্রলারে রক্ত দেখা গেছে।
তবে আটককৃত ইব্রাহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি খুন করিনি। ঐ ট্রলারের পাখায় জাল পেঁচালে তা উঠানোর সময় রাশাদের কাপড় পেঁচিয়ে পেট কেটে যায়। এ সময় রাশাদ ও জামালের মধ্যে তর্ক হলে রাশাদ জামালকে লাইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তাৎক্ষণিক জামাল পানিতে পড়ে যান।
পাথরঘাটা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, আটককৃত ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। ট্রলার উদ্ধারসহ জব্দ তালিকা করে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে। এছাড়া মাছ নিলামে বিক্রি করে ট্রলারের মালিক নিহত রাশাদের ভাই তুহিনের কাছে টাকা দেওয়া হবে।
রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ট্রলার মালিককে কুপিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং একজন আহত হওয়ার ঘটনা শুনেছি। ট্রলারসহ অভিযুক্ত ইব্রাহিমকে আটক আছেন। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।