শুক্রবার বিকেল থেকে সাগরকন্যাখ্যাত এ পর্যটন নগরীতে উপচেপড়া দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী আগতদের কক্ষসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অনেক পর্যটক হোটেলে জায়গা না পেয়ে অবস্থান নিচ্ছেন পরিচিত বন্ধু কিংবা স্বজনদের বাড়িতে। আবার অনেক পর্যটককে প্রয়োজনীয় পোশাকের ব্যাগ বালিয়াড়িতে রেখেই প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ উৎসব করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, আগে থেকেই নামীদামি তারকা হোটেলগুলোর রুম বুকিং শেষ হয়ে গেছে। মাঝারি হোটেলগুলোসহ সাধারণ হোটেলগুলোতেও এখন কোনো রুম খালি নেই। বেশি পর্যটক আগমনের সুযোগে কিছু কিছু হোটেল রেস্টুরেন্ট পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া ও টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
.png)
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর কুয়াকাটায় তেমন পর্যটক আসেনি। ভরা মৌসুমে আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে কিছুটা পর্যটকদের সাড়া মিলছে। এতে হাসি ফুটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে। আশা করছি, এই ধারাবাহিকতা সারা বছর থাকবে।
বরিশাল থেকে আসা ছাব্বির জানান, বন্ধুদের নিয়ে দুপুরের পর কুয়াকাটায় এসেছেন। পর্যটকদের ভিড় দেখে বেশ ভালো লাগছে। সবার সঙ্গে মিশে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করছেন তারা।
কুয়াকাটা সমুদ্রবাড়ি রিসোর্টের পরিচালক মিরন জানান, তার রিসোর্টের সবকক্ষ দুইদিন আগেই বুকিং হয়ে গেছে। রমজানের আগ পর্যন্ত ছুটির দিনে এমন ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা (বাসা মালিক) আকবর মিয়া বলেন, কুয়াকাটায় বিভিন্ন ছুটির দিনগুলোতে এ রকম চাপ হয়। তখন পর্যটকরা বাসা-বাড়িতে থাকতে চায়। আসলে এক রাতের জন্য ভাড়া দিয়ে আমরাও কিছু টাকা পাই আবার তাদেরও থাকার জায়গা হলো। আসলে এখানে টাকা-পয়টা মুখ্য বিষয় নয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষদের একটু সহযোগিতা করতে পারছি এটাই অনেক।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মনিরুল হক ডাবলু বলেন, হঠাৎ রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবাই হিমশিম খেয়ে গেছে। তবে পর্যটকরা হোটেলগুলোতে রুম না পেলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।