মূলত মাঘের শেষ দিক থেকে উপজেলার বিভিন্ন আম গাছে আমের মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। এ বছর আমের মুকুলের সোনালি রঙের নান্দনিক দৃশ্য অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি লক্ষণীয়। তাই চলতি মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন ধরনের আমের ভালো ফলন হবে এমন আশাবাদ স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের।
জানা যায়, আমচাষ লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় প্রতিবছরই বাড়ির আঙিনা, ছাদকৃষিসহ বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় আমের বাগান কিংবা আম গাছের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন গড়ে ওঠা আমের বাগানগুলোতে বেশির ভাগ গাছই হলো ল্যাংড়া, আম্রপালি, গোপালভোগ ও আশ্বিনা জাতের। কেননা এসব জাতের আম খেতে যেমন সুমিষ্ট, বাজারেও এগুলোর চাহিদা ব্যাপক। তাই কৃষকরা বিভিন্ন স্থান থেকে ওইসব জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে তারা ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদনের দিকে নজর বেশি দিচ্ছেন।
.png)
উপজেলার ঢেকিয়া গ্রামের আমচাষি মহররম আলী, রুবেল মৃধাসহ অনেকেই জানান, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ায় আমের পর্যাপ্ত মুকুল গাছে গাছে দৃশ্যমান হয়েছে। তবে ফাগুনের শুরুতেও এবার কিছুটা শীতের প্রকোপ থাকায় আমের মুকুলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মূলতঃ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুলের দেখা মিলছে অনেক বেশি। এদের মধ্যে গোপালভোগ জাতের আম গাছে মুকুল আসায় বেশ খুশি চাষিরা। তবে অনেক কৃষকরা বলেছেন, আগেভাগে আসা মুকুল আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শঙ্কা রয়েছে আমের ফলন কমে যাওয়ারও। কেননা কুয়াশা কিংবা বৃষ্টির কবলে না পড়লে, এসব মুকুলে থেকে ভালো আম উৎপাদন হবে। অনেকের ধারণা মাঘের শেষদিকে যেসব গাছে মুকুল আসে, তাতে ভালো ফলন হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবারো হোসেনপুরের সর্বত্রই আমের বাম্পার ফলন হবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবির জানান, এবার কিছুটা আগেই সোনালী আমের মুকুলে ভরে ওঠছে গাছগুলো। তাই স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই যে কোনো পরিস্থিতিতে কৃষকের আমবাগান কিংবা আম গাছের সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে সার্বক্ষণিক কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা নিয়োজিত রয়েছেন।