ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাঁশের সাঁকোতে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল 

সাগর মিয়া, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) 
প্রকাশিত: ১৫:০৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বাঁশের সাঁকোতে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নরসুন্দা খালের ওপর সেতু না থাকায় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। 

ভোগান্তি বাড়ছে রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের। তাই ভুক্তভোগীরা জরুরি ভিত্তিতে ওই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ।

সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোবিন্দপুর ইউপির উত্তর গোবিন্দপুর-কান্দিপাড়া আদর্শ গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শত শত নারী-পুরুষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নড়বড়ে ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার আবেদন নিবেদন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাই প্রতিদিন চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

Advertisement

হোসেনপুর সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান মানিকসহ অনেকেই জানান, এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান দুঃখ হচ্ছে ওই বাঁশের সাঁকো। কেননা তারা দৈনন্দিন কাজে উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হলে ওই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি পাড় হয়ে যেতে হয়। এটি দিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বয়োবৃদ্ধ রোগী ও স্কুলগামী শিশুদের। মূলত ওই একটি সেতুর অভাবে নরসুন্দা খালের দুই পাড়ের কয়েক গ্রামের মানুষ ভোগান্তি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছেন। 

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম হিমেলসহ স্থানীয় লোকজন আক্ষেপ করে বলেন, প্রায়ই ওই নড়বড়ে সাঁকোতে পা পিছলে খালের পানিতে পড়ে গিয়ে অনেকেই আহত হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। তাই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে তারাও ওই খালের ওপর জরুরি ভিত্তিতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সাইদুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের চাহিদা নিরূপণ করে নরসুন্দা খালের ওপর ওই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তা দ্রুত বাস্তবায়নেও সচেষ্ট রয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিদ্র মন্ডল ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইসতিয়াক হোসাইন উজ্জল জানান, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ওই বাঁশের সাঁকোর স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জেনেছেন। তাই আগামী উন্নয়ন প্রকল্পে ওই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই যাতে সেখানে সেতুটি নির্মাণ করা যায় তার জন্যও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!