জেলার রায়পুরাসহ পলাশ উপজেলা কর্মকর্তাদের উদ্যোগে কৃষকরা রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন বলে জানায় কৃষি অধিদফতর, নরসিংদী।
পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপির বাগানগুলোতে প্রতিনিয়ত এই হলুদ-বেগুনি ফুলকপি দেখতে ও কিনে নিতে ভিড় করছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। স্থানীয়রা জানান, তারা সব সময় সাদা ফুলকপি কিনেছেন। রঙিন ফুলকপি সোশ্যাল মিডিয়ার দেখে কিনতে এসেছেন।
.png)
আবু তাহের মিয়া ও জসিম উদ্দিন নামে দুইজন ক্রেতা বলেন, এগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। শুনেছি খেতেও সুস্বাদু এই ফুলকপি। এক পিস কপি ৭০ টাকা দিয়ে কিনেছি।
কৃষি অধিদফতরের সহায়তায় রায়পুরা উপজেলায় অলিপুরা গ্রামে মোমতাজ উদ্দিন নামে এক কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষ করে নজর কেড়েছেন। কথা হয় রঙিন ফুলকপি চাষি মো. মোমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় পাঁচ শতক জমিতে ৩৬০টি হলুদ, ১৮০টি খয়েরি রঙের ফুলকপি চাষাবাদ করেছি। ফলন আসতে সময় খুব কম লাগে। দুই হাজার টাকা খরচ করে কয়েকগুণ দাম বেশি পেয়ে বিক্রি করতে পারছি। এরই মধ্যে সাত হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আরো পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারবো। আমার রঙিন ফুলকপির বাগান দেখে অনেকে সামনের বছর চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
একই উপজেলার উত্তর বাখর নগর গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, অল্প কিছু জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করে ভালো লাভবান হয়েছি। আগামী বছর ব্যাপক হারে চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

হায়দার আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, রঙিন ফুলকপি সাদা ফুলকপি থেকে বাজারে বেশি বিক্রি হয়। এক পিস কপি ৬৫ থেকে ৮০ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এই ফুলকপি চাহিদা থাকায় আমরাও চাষ করবো।
রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রথম বারের মতো উলিপুর গ্রামে মোমতাজ উদ্দিন মাধ্যমে আমরা রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হতে পেরেছি। বাজারে এর দামও ভালো। আগামী মৌসুমে এই ফুলকপি চাষে রায়পুরার অনেক কৃষক এগিয়ে আসবেন বলে মনে করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নরসিংদী কার্যালয়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, রঙিন ফুলকপিতে অধিক পুষ্টি রয়েছে। এই কপি সাদা ফুলকপির চেয়ে আকর্ষণীয় হওয়ায় বাজারে চাহিদা ব্যাপক। নরসিংদীর রায়পুরা ও পলাশে পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি আবাদ করা হয়েছে। এখনো আমরা আবাদকৃত রঙিন ফুলকপির জমির পরিমাণ নির্ণয় করিনি।
তিনি আরো বলেন, উপজেলা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল রঙিন ফুলকপি আবাদের বিষয়ে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষিরা রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন। আগামী মৌসুমে ব্যাপক চাষে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।