তবে শুধু খেসারির ডালই নয়, এটির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়া হচ্ছে সব ধরনের ছোলা ও ডালের বাজার। রমজানকে ঘিরে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ছোলা ও সব ধরনের ডাল আমদানি হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এরপরও রোজা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চড়া হচ্ছে এসব পণ্যের দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ছোলার দাম। আর সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।
দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশ আমদানি করা হলেও টেনে ধরা যাচ্ছে না দামের লাগাম। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে বেড়েছে আমদানি বিল পরিশোধে ব্যয়। যার প্রভাব পড়েছে ডালের দামে।
.png)
অন্যদিকে, পণ্যের দামে লাগাম টানতে প্রশাসনের কড়া নজরদারির কথা জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সংশ্লিষ্টরা।
বেড়েছে ছোলা-ডাল আমদানি
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, রমজান উপলক্ষে এবার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি আমদানি হয়েছে ছোলা। মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে পাঁচ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন ছোলা এসেছে গত ডিসেম্বরে। জানুয়ারিতে এসেছে ৬৬ হাজার ৩০ মেট্রিক টন। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই এখন পর্যন্ত এসেছে ১৭ হাজার ৩৯৫ মেট্রিক টন। আগের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছোলা আসে দুই লাখ মেট্রিক টন।
তবে শুধু ছোলা নয়, গত কয়েক বছরের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে ডাল আমদানিও। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই আমদানি হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন মসুর ডাল। এর মধ্যে জানুয়ারিতেই এসেছে ৪৯ হাজার ১৪৭ মেট্রিক টন। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে ১৭ হাজার ৯৯ মেট্রিক টন। আগের বছর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আসে চার লাখ ৯৫ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন মসুর ডাল।
অন্যদিকে, কানাডা ও রাশিয়া থেকে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই আমদানি হয়েছে এক হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন মটর ডাল। আগের অর্থবছরে যেটি আসে ৫০২ মেট্রিক টন।
রমজানে বাড়ে মাষকলাই ডালের চাহিদাও। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই এক হাজার ৬২৫ মেট্রিক টন আমদানি হয়েছে এই ডাল। আগের অর্থবছরে মাষকলাই ডাল আসে পাঁচ হাজার ৫৮১ মেট্রিক টন।
১১০ টাকার মুগ ডাল ১৬০
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের পর তা সরাসরি চলে আসে দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের এ বাজারে। এরপর এখান থেকেই যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফলে বলা চলে- দেশের পণ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ করে খাতুনগঞ্জ।
খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, ডালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুগ ডালের দাম। এক থেকে দুই মাস আগে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া এই ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ ৫০ টাকা বেড়েছে এই ডালের দাম। একই সময়ের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়েছে মটর ডালের দামও। এক মাস আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি মটর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রতি কেজি মোটা মসুর ডাল (অস্ট্রেলিয়ান) ৯০ এবং চিকন মসুর ডাল (দেশি ও ভারতীয়) ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অল্প এ সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে দুটির দাম। এর মধ্যে মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০২ টাকায়, আর চিকন মসুর ডাল ১৩৪ থেকে ১৩৮ টাকায়। অন্যদিকে, এক মাস আগেও প্রতিকেজি ৯০ টাকার নিচে বিক্রি হওয়া ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
পাইকারির প্রভাব খুচরায়
পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব ছড়িয়েছে খুচরা বাজারে। মোটা মসুর ডাল ১১০, চিকন মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৫৫, মুগ ডাল ১৮০, মটর ডাল ৯০ এবং ছোলা ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারগুলোতে।
বাড়তি মুনাফার প্রবণতা
খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, ডলার সংকটের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগ্যপণ্য আমদানির ঋণপত্র খুলছে না ব্যাংকগুলো। ফলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ভোগ্যপণ্য আমদানি। তাদের বাড়তি মুনাফা আয়ের প্রবণতার কারণে বেড়েছে এসব পণ্যের দাম।
প্রয়োজন নজরদারি
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এখনই প্রশাসনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন।