ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায়

নদীগর্ভে ফসলি জমি, ঝুঁকিতে শত শত পরিবার

মাহবুবুজ্জামান সেতু, মান্দা (নওগাঁ)
প্রকাশিত: ১৫:০০, ২ মার্চ ২০২৪
নদীগর্ভে ফসলি জমি, ঝুঁকিতে শত শত পরিবার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর মান্দায় অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। এরই মধ্যে আত্রাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কৃষকের অন্তত ৫০ বিঘা উর্বর জমি। এতে করে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে পড়বে নদীপাড়ের শত শত পরিবার।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ভাটি অংশের বাইবুল্যা এলাকায় নদীপাড়ের ফসলি জমিতে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের লোকজন। সেখান থেকে বালু তুলছেন আরিফ হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ী। এরপর ড্রেজার মেশিন দিয়ে এসব বালু কেটে নদীর অপর প্রান্তে নিয়ে জমা করা হচ্ছে। সেখান থেকে বিক্রি করা হচ্ছে অবৈধ পন্থায় তোলা এসব বালু।

একইভাবে খুদিয়াডাঙ্গা শ্মশানঘাট, এলেঙ্গা স্লুইসগেট, পাঁজরভাঙ্গা, ফকিন্নি নদীর ব্রিজ সংলগ্ন পূর্বপাড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এভাবে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে নদীপাড়ে ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকের আর কোনো জমি থাকবে না। হুমকির মুখে পড়বে আত্রাই নদীর উত্তর তীরের বেড়িবাঁধ। বর্ষা মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে পড়বে নদীপাড়ের শত শত পরিবার।

Advertisement

নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমিস্থানীয়রা জানান, নদীপাড়ের এসব উর্বর জমিতে বছরের আট মাস গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, মিষ্টি আলু, মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। এসব উর্বর ফসলি জমি রক্ষায় উপজেলা মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অ্যাসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকার কৃষকরা। এরপরও অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের দমানো যাচ্ছে না।

বালু ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, বৈধভাবে ইজারা নিয়ে বালু তুলছি। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির মুন্সী বলেন, বিষয়টি জেনেছি। যদি নদীর তীর কেটে কেউ মাটি তুলে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!