ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

রঙিন ফুলকপিতে প্রথমবারেই বাজিমাত!

বিল্লাল হোসেন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ১২:৩২, ৪ মার্চ ২০২৪
রঙিন ফুলকপিতে প্রথমবারেই বাজিমাত!
রঙিন ফুলকপি চাষ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবার রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নাগরী ইউনিয়নের বির্তুল গ্রামের কৃষক মো. আলী হোসেন। প্রতিবছর সাদা ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলির চাষ করলেও এবার তার ক্ষেতে শোভা পাচ্ছে হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি।  

স্থানীয় বাজারেও বেশ সাড়া ফেলেছে আলী হোসেনের রঙিন এই ফুলকপি; কৌতুহলবশত কিনছেন অনেকে, বিক্রিও হচ্ছে বেশি দামে। আশানুরোপ দাম পাওয়ায় কৃষক নিজেও খুশি। তবে তাকে দেখে আশপাশের কৃষকরাও এই রঙিন ফুলকপি চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। 

কৃষক আলী হোসেন জানান, রঙিন ফুলকপি চাষে প্রথমে সাহস পাচ্ছিলেন না। ভয় ছিল লোকসানের। পরে স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শে উদ্যোগী হন। আর প্রথমবারেই তার সফলতা দেখে এখন উৎসাহ পাচ্ছেন অন্য কৃষকরাও। তবে আগামীতে কৃষি অফিসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ২০ শতক জমিতে শুধু রঙিন ফুলকপির চাষ করবেন বলেও জানান তিনি। 

রঙিন ফুলকপি চাষ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, মাঠে আমার অনেক কৃষি জমি থাকলেও আমি মাত্র ২ শতক জমিতে শুরু করি। কৃষি অফিস থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে প্রায় দুইশ রঙিন ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলাম। সবগুলোই ভালোভাবে বড় হয়েছে। এখন বাজারে ৬০ টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রি করি। সেগুলো আবার খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকা কেজিতে।

রঙিন ফুলকপি চাষে খরচ কেমন জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, খরচ মোটামুটি একই রকম। তবে জৈব সার দিতে হয় বেশি। সাদা ফুলকপির মতো রঙিন ফুলকপিও আকারে বেশ বড় হয়।

রঙিন ফুলকপি চাষ

বির্তুল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সাদা ফুলকপির মতই রঙিন ফুলকপির চাষ হবে কিনা, প্রথমে সেটা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু প্রতিবেশী আলী হোসেন চাচার ২ শতক জমিতে সফলভাবেই চাষ করেছেন। আগামীতে কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে আমিও এ রঙিন ফুলকপির চাষ করব ইনশাআল্লাহ।  

আরেক কৃষক রোপণ শেখ বলেন, আলী হোসেন দাদার রঙিন ফুলকপির ক্ষেত দেখতে আসছেন অনেকে। কেউ কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। আমাদের কাছে এ ধরনের সবজি চাষ এবারই প্রথম।

নাগরী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমাদের কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী এবারই প্রথম রঙিন ফুলকপির বীজ সংগ্রহ করে কৃষক আলী হোসেনকে দিয়েছি। তিনি দুইশ চারা রোপণ করেছেন। পরীক্ষামূলক এই রঙিন ফুলকপির ফলন দেখে কৃষক খুশি। আশপাশের কৃষকরাও এ রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। 

রঙিন ফুলকপি চাষ

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম বলেন, স্থানীয় একজন কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করায় আমরা পরীক্ষামূলকভাবে তাকে এটি করতে সহায়তা করেছি। এতে বাড়তি কোনো খরচ নেই। সাদা ফুলকপি চাষের মতোই খরচ। 

তিনি আরো বলেন, রঙিন ফুলকপি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। বিশেষ করে- বেগুনি কালারের ফুলকপি যেগুলো, তা আমাদের শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি দেখতে খুব সুন্দর, যে কারণে মাঠে দেখার জন্য অনেকেই ভিড় করছে। আবার অন্যান্য কৃষকরাও এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!