আসামিরা হলেন- এনটিভির বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আ স ম হাফিজ আল আসাদ ওরফে সোহেল হাফিজ, যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি ফেরদৌস খান ইমন, ডিবিসি নিউজের আবদুল মালেক, সময় টেলিভিশনের সাইফুল ইসলাম, মোহনা টেলিভিশনের জাফর হোসেন হাওলাদার এবং তাদের সহযোগী আরিফুল ইসলাম (২৮), মো. কাসেম হাওলাদার (৩০), মো. ছগির হোসেন (২৮), ওয়ালিউল্লাহ ইমরান (২৮), জাহিদুল ইসলাম (২৮), সোহাগ হাওলাদার (২৫), এ এস এম সিফাত (২৭) ও শহিদুল ইসলাম (৪৫)।
জানা গেছে, বরগুনা প্রেস ক্লাবে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে তালুকদার মাসউদকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যান তালুকদার মাসউদ।
.png)
মাসউদ দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, তালুকদার মাসউদ বরগুনা প্রেস ক্লাবের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই ‘বরগুনা জেলা প্রেস ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন করেন তিনি। এ কারণে বরগুনা প্রেস ক্লাবের নেতৃস্থানীয় কিছু সদস্য মাসউদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সদস্য মুশফিক আরিফের সঙ্গে বরগুনা প্রেস ক্লাবে গিয়ে ক্যারাম খেলছিলেন মাসউদ। তখন এনটিভির বরগুনা প্রতিনিধি সোহেল হাফিজ ক্ষিপ্ত হয়ে মাসউদকে গালিগালাজ করেন। তর্কের একপর্যায়ে সোহেল হাফিজসহ আসামিরা প্রেস ক্লাবের গেট বন্ধ করে মাসউদকে মারধর করেন।
প্রেস ক্লাবে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও আসামিরা গেট খোলেননি। ঘণ্টাখানেক পর সদর থানার ওসি এ কে এম মিজানুর রহমান ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি বশিরুল আলম আহত মাসউদকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে পাঠানো হয়। ১৩ দিন পর শনিবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে মারা যান মাসউদ।
মাসউদের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, জেলা প্রেস ক্লাব গঠনের পর থেকেই বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনটিভির প্রতিনিধি সোহেল হাফিজ ও তার অনুসারী কিছু সাংবাদিক আমার স্বামীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। জেলা প্রেস ক্লাব বন্ধ করতে বেশ কয়েকবার সোহেল হাফিজ আমার স্বামীকে হুমকিও দিয়েছেন। এ ঘটনার রেষ ধরে সোহেল হাফিজসহ অন্যরা আমার স্বামীকে প্রেস ক্লাবে আটকে নির্মম নির্যাতন করেন। যার শিকার হয়ে আমার স্বামী মারা গেছেন। আমি এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চাই।
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, মামলার বিষয়টি শুনেছি। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রেস ক্লাবে অপ্রীতিকর ঘটনায় মাসউদ আহত হলেও চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি বরগুনায় এসেছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে আবারো তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন।
বরগুনা সদর থানার ওসি আবুল কাশেম মো. মিজানুর রহমান বলেন, সাংবাদিক তালুকদার মাসউদের স্ত্রী সাজেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।