সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরলামচী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত আশরাফ আলী ওই গ্রামের মনসুর আলী রাজ বাড়ির বাসিন্দা। পাওনাদার শরীফ একই বাড়ির শাহ আলমের ছেলে ও সম্পর্কে তারা দাদা-নাতি।
পুলিশ জানায়, মৃত আশরাফ আলীর ছেলে খোরশেদ আলম একই বাড়ির শরীফকে প্রবাসে নেয়ার কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। কিন্তু প্রবাসে যাওয়ার পর ভিসা জটিলতায় ১৫ দিন পর দেশে ফিরে আসেন শরীফ। দেশ ফিরে শরীফ ভিসার টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে ঝগড়ায় লিপ্ত হতো উভয় পরিবার। এনিয়ে সামাজিকভাবে একাধিকবার বৈঠকও হয়। টাকা ফেরত না দেওয়ায় নাতি শরীফ বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। একপর্যায়ে সস্ত্রীক ফেনীতে ভাড়াবাসা নিয়ে থাকতেন আশরাফ। এরই সুযোগে দাদার বসতভিটা দখলে নেন নাতি শরীফ ও তার স্বজনরা।
.png)
এদিকে দীর্ঘ সাত বছর ভাড়াবাসায় থাকার পর ফেনীতে সোমবার (৪ মার্চ) সকালে মারা যান বৃদ্ধ আশরাফ। দুপুরে দাফনের উদ্দেশে ফেনী থেকে মরদেহ বাড়িতে আনে পরিবারের লোকজন। পরে তার স্বজনরা দুপুর ১টার দিকে জানাজার প্রস্তুতি নিলে পাওনা টাকার দাবিতে মরদেহ দাফনে বাধা দেন নাতি শরীফ, তার মা ও মামা জবি উল্ল্যাহসহ কয়েকজন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হলেও মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে মরদেহ দাফন করতে না পেরে আড়াই ঘণ্টা পর জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেয় মৃতের স্বজনরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা নেয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, খবর পেয়ে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করে পুলিশ।
উভয় পক্ষকে বসে বিষয়টি সমাধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।