নিহত শিল্পী আক্তার জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা খোলাপাড়া এলাকার মহিউদ্দিনের মেয়ে ও নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর (হাজীর হাটি) এলাকার হাজীর মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। শিল্পী আক্তারের একটি ৫ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের মহিউদ্দিনের মেয়ে শিল্পী আক্তারের সঙ্গে একই জেলার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউপির উত্তর লক্ষীপুর (হাজীর হাটি) এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে হাজীর মিয়ার সঙ্গে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে সাড়ে ৪ লাখ টাকা কাবিনে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শিল্পী আক্তারের স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যৌতুকের জন্য শিল্পী আক্তারকে শারীরিক, মানসিকভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করতো। নির্যাতন করায় শিল্পী আক্তারের বাবা গত বছরের ২৫ জুলাই হাজীর মিয়া ও তার ভাই সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে তারা মামলায় জামিন নিয়ে সালিশের মাধ্যমে আর কখনো যৌতুক চাইবে না বলে আপোষ মীমাংসা করে। পরে মামলাটি প্রত্যাহার করেন শিল্পীর বাবা। কিন্তু যৌতুকলোভীরা শিল্পীকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুনরায় তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দেয় ও টাকার জন্য তর্ক বির্তকে জড়িয়ে পড়ে। তর্ক-বির্তকের এক পর্যায়ে শিল্পী আক্তারের ৫ বছর বয়সী মেয়ে মিম আক্তারের হাত মুচরে ভেঙে ফেলে পরিবাবের সদস্যরা। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে পুনরায় যৌতুকের টাকার জন্য আবার শিল্পী আক্তারকে চাপ দেয় পরিবারের সদস্যরা।
.png)
এক পর্যায়ে শিল্পী আক্তারের হাতে-পায়ে, কপাল ও ঘাড়ে আঘাত করে। পরে তারা গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে শিল্পীকে হত্যা করে। পরে শিল্পী আক্তারের বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে নবীনগর থানায় শিল্পীর স্বামী হাজীর মিয়া, তার ভাই সোহেল মিয়া, বোন খাদিজা বেগম, বোন জামাই বাচ্চু মিয়া , হাজীর মিয়ার দুই ভাইয়ের স্ত্রী সীমা ও বেবিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত শিল্পী আক্তারের বাবা মহিউদ্দিন জানান, স্থানীয় মেম্বার আবুল কাশেম ও হাজীর মিয়ার ব্যবসায়িক পার্টনার সাইফুলের মাধ্যমে ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে জানতে পারি আমার মেয়েকে তারা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। আজ অনেক দিন হয়ে গেলো, পুলিশ কোনো আসামিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারনি। পুলিশ যেন অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায় সেই দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের প্রতি।
নবীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি হত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় নিহত শিল্পী আক্তারের স্বামী হাজীর মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।