ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যে গ্রামে নেই কোনো জনবসতি ও ভোটার

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ৭ মার্চ ২০২৪
যে গ্রামে নেই কোনো জনবসতি ও ভোটার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কাগজ-কলমে গ্রামটির নাম উল্লেখ থাকলেও গ্রামটিতে নেই কোনো জনবসতি ও ভোটার। শুধু তাই নয়, জনমানবহীন এই গ্রামটিতে নেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতাও। অবিশ্বাস্য হলেও এমন একটি গ্রামের খোঁজ মিলেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়। গ্রামটিতে প্রবেশ করেই যেদিকেই চোখ যায়, নেই কোনো জনবসতি। চারদিকে শুধু বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।

গাইবান্ধা জেলায় সাদুল্যাপুর উপজেলার ৬ নম্বর ধাপের হাট ইউনিয়নের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রাম নামেই পরিচিত এই গ্রামটি। আনুমানিক ১৩০০ একর আয়তনের এই গ্রামটিতে জনবসতি নেই স্বাধীনতার আগ থেকেই। ধাপেরহাট ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে পশ্চিম ভবানীপুরও একটি গ্রাম।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার আগে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামজুড়েই ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) বসবাস। কিন্তু তারা বাংলাদেশ স্বাধীনের আগেই পাড়ি জমান পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। মূলত; তখন থেকেই জনমানবহীন হয়ে পড়ে এই গ্রামটি।

Advertisement

মানবশূন্য গ্রামে চাষাবাদপার্শ্ববর্তী আলীনগর গ্রামের আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেন, এই গ্রামে আমার জমি আছে কিন্তু কোনো বাড়ি নেই। বাপ-দাদার মুখে শুনেছি এই গ্রামে হিন্দু জমিদারদের বসবাস ছিল। স্বাধীনতার অনেক আগেই জমিদাররা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। তখন থেকেই এই গ্রামটি মানবশূন্য হয়ে পড়ে।

সিদ্দিক মিয়া নামের একজন বলেন, আমার জন্ম থেকেই আমি দেখে আসছি এই এলাকায় ভোটার নেই। এই গ্রামের জমিগুলোতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু কেউ এখানে বসবাস করেন না। সবাই পার্শ্ববর্তী আলীনগর গ্রামে বসবাস করেন। শুধু ফসল ফলানো কিংবা কাজকর্মের জন্য পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে মানুষরা দিনেরবেলা এই গ্রামে আসেন। মানুষজন না থাকায় এই গ্রামে নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

ভবানীপুর গ্রামে অনেকক্ষণ ঘুরেও চোখে পড়েনি কোনো বসতি। তবে, সম্প্রতি এই গ্রামে কয়েকটি পরিবার বসবাস করা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু বসবাস করা এসব পরিবারের মানুষেরাও পাশের আলিনগর গ্রামের ভোটার। তারা বলছেন, পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে বসবাস করলেও নিজের নাম-পরিচয়‌ আর ভোটার হিসেবে তাদের পরিচয় দিতে হয় আলিনগর গ্রামের হয়ে।‌

মিজান নামের এক যুবক বলেন, এই গ্রামটি জনমানবহীন হওয়ায় পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে গড়ে ওঠেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে এই গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকেন পাশের আলিনগর গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ।

পাখির চোখে সেই গ্রামএই যুবক আরো বলেন, গ্রামটি যেহেতু বসবাসের উপযুক্ত তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এদিকে নজর দেওয়া। যে দুই-চারজন এই গ্রামের মানুষ রয়েছে তাদেরকে এই গ্রামের ভোটার করা।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন,‌‌ এই ইউনিয়ন পরিষদের ২২টি মৌজা আছে। তার মধ্যে পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে কোনো ভোটার নেই। মূলত; এই গ্রামটি কৃষি নির্ভরযোগ্য। সম্প্রতি চার-পাঁচটি পরিবার এখানে বসবাস করা শুরু করেছে। তবে দুঃখজনক বিষয় যারা এখানে বসবাস করেন তারা পাশের গ্রাম আলিনগরের ভোটার। আমরা চেষ্টা করছি পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামে যারা বসবাস শুরু করেছেন তারা যেন এই গ্রামের পরিচয় দিতে পারেন এবং সেই লক্ষ্যে পরিষদের আমরা সবাই কাজ করছি।

উল্লেখ্য, ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মৃত্যুতে শূন্য হয় চেয়ারম্যান পদটি। আগামী‌ ৯ মার্চ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!