এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালিশিরি গ্রামের মনফর উল্ল্যার স্ত্রী মমিনা খাতুন (৩৮) এবং একই ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে আব্দুর রউফ।
এর মধ্যে মমিনা খাতুন ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।
.png)
নির্যাতনের শিকার শিশুরা হলো- কালিশিরি গ্রামের মৃত কন্টু মিয়ার ছেলে নুর ইসলাম (১০) ও আব্দুল হাকিমের ছেলে তোফাজ্জল (৮)।
জানা যায়, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালিশিরি গ্রামে নুরুল ইসলাম ও তোফাজ্জলের মা তাসলিমা। মা একজন হলেও বাবা দুইজন। তারা তাদের নানির বাড়িতে থাকে। নানি এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে সংসার চালান। তাদের মা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব চলে যান জীবিকার তাগিদে।
গত ৪ মার্চ বিকেলে কালিশিরি গ্রামের জোবায়ের নামের এক যুবক শিশু নুরুল ইসলাম ও তোফাজ্জলকে মাঠ থেকে গরু চুরির অভিযোগে ধরে এনে বাড়ির একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এ সময় ঘনশ্যামপুর গ্রামের সাজল মিয়া, বনগাঁও গ্রামের আব্দুর রউফ, ইউপি সদস্য মমিনা খাতুনসহ ৭-৮ জন লোক ঐ দুই শিশুকে একই অভিযোগে মারধর করেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার (ওসি) হিল্লোল রায় বলেন, গত ৪ মার্চ শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও কেউ আমাদেরকে অবগত করেনি। শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হলে তা আমাদের নজরে আসে। পরে আমরা তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে দু’জনকে আটক করি।
তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিত শিশুদের নানি আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে ইউপি সদস্য মমিনা খাতুনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।