ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আগুনে দোকান পুড়ে নিঃস্ব দুলাল মিয়া

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪০, ১৩ মার্চ ২০২৪
আগুনে দোকান পুড়ে নিঃস্ব দুলাল মিয়া
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরশহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুদি দোকানি দুলাল মিয়া। স্থানীয় কমলপুর গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে তিনি। সহায় সম্পদ বলতে তার তেমন কিছুই নেই। তাই বাড়ির পাশে টিএনটি অফিসের সামনে একটি টং দোকান দিয়ে ২০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ দুলাল মিয়ার ৫ সদস্যের ভরণ পোষণ চলে এ দোকান দিয়েই। 

কিন্তু মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার ওই টং দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছুটে গিয়ে আগুন নিভালেও ততক্ষণে দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়।

দুলাল মিয়া জানান, প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানতে পারি আমার দোকানে আগুন লেগেছে। ছুটে গিয়ে দেখি দোকানের সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। শত্রুতা করে কেউ এ আগুন লাগিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দুলাল মিয়া। 

Advertisement

তিনি আরো বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ দোকানটি চালিয়ে আসছিলাম। এখন ঋণ কিভাবে দিব আর সংসারের খরচ ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কিভাবে চালাব। বড় ছেলেটা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, ছোট ছেলেটা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে এবং মেয়েটা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। এ দোকান দিয়েই আমার সবকিছু চলতো। এখন কিভাবে কী করব ভেবে পাচ্ছি না। আগুনে পুড়ে ওই দোকানে থাকা একটি ফ্রিজ, সৌর বিদ্যুতের একটি ব্যাটারি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মিয়া বলেন, মুদি দোকানি দুলাল মিয়া এলাকায় একজন সহজ সরল মানুষ হিসেবে পরিচিত। দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে তার দোকানটি পুড়িয়ে দিয়ে একটা জঘন্য কাজ করেছে। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং দোকানটি আবারো চালু করতে অসহায় দুলাল মিয়াকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ হৃদয়বান ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কেন্দুয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীদের নিয়ে আগুন নিভাতে সক্ষম হই। তবে তার আগেই মুদি দোকানের সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. এনামুল হক বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!