ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গাছ প্রকৃতি পরিবেশ মানুষের পরম বন্ধু  

লিটন ঘোষ জয়, মাগুরা 
প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ১৬ মার্চ ২০২৪
গাছ প্রকৃতি পরিবেশ মানুষের পরম বন্ধু  
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বৃক্ষকে বলা হয় অক্সিজেনের কারখানা। গাছ হচ্ছে প্রকৃতি পরিবেশ এবং মানুষের পরম বন্ধু। গাছ নিয়ে- ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট বলেছেন ‘যে জাতি তার মাটি ধ্বংস করে সে নিজেকে ধ্বংস করে।’ বন হলো আমাদের জমির ফুসফুস, বাতাসকে বিশুদ্ধ করে এবং আমাদেরকে নতুন শক্তি দেয়।’ সত্যি তাই! অক্সিজেন তৈরি ও বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড দূরীকরণ এবং ভূমি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই বৃক্ষ। গাছের উপকারিতা বা গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গাছের অবদান অপরিসীম। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, ছায়া- এ সবকিছুই আমরা গাছ থেকে পাই।

রবী ঠাকুর লিখেছেন- তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/সব গাছ ছাড়িয়ে/উকি মারে আকাশে।/মনে সাধ কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়/একেবারে উড়ে যায়/কোথা পাবে পাখা সে?

তবে পাখা থাকুক আর নাই বা থাকুন! রাস্তার দুপাশে দৃষ্টি নন্দন বৃক্ষের সারি দেখলে যে কারোই মন ভালো হয়ে যাবে। আকাশমনি, মেহগনি, জারুল, অর্জুন, সোনালু, বাবলা, জাম, শিমুল, শিশু, নিম, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, ইপিল-ইপিল, কৃষ্ণচূড়া, বকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগিয়ে আলোচনায় এসেছে সামাজিক বনবিভাগ। 

Advertisement

যশোরের আওতাধীন মাগুরার শালিখা উপজেলায় বুনোগাতী ইউপির সোনাকুড় ব্রিজ থেকে ধনবাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত ২০১৯-২০২০ আওতায় বাঁধে ১০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করে সিডলিং কিলোমিটার বাঁধ বাগান করা হয়েছে। 

সামাজিক বনায়ন নীতিমালার আলোকে করা হয়েছে এ বাগান। বাগানটিতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ১২০ জন। ১১০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী উপকারভোগী সম্পৃক্ত আছেন। বাগানটিতে ১৪ প্রজাতির মতো বিভিন্ন চারা রোপণ করা হয়েছে। 

সরজমিন দেখা গেছে, মাগুরা শালিখা উপজেলার সোনাকুড় থেকে ধনবাড়িয়া শ্মশানঘাট পর্যন্ত সৃজিত বাঁধ বাগানটি এলাকায় দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। পাখ-পাখালিদের আবাসস্থল সৃষ্টির ফলে পাখিদের কলরবে বাগানটির এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। বন বিভাগ কর্তৃক সবুজায়নের ফলে প্রাকৃতি পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও উন্নত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃক্ষ প্রেমিরা ছুটে আসছে দৃষ্টি নন্দন এমন সৌন্দর্য দেখার জন্য। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন বিভাগের বনায়ন দেখে তারা ভূয়সী প্রশংসা করছে।

মাগুরা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাফর উল্লাহ বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সমস্ত কিছু আমরা গাছ থেকেই পাই। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের বিকল্প আর কিছু নেই। সেই আলোকে শালিখা উপজেলার সোনাকুড় থেকে ধনবাড়িয়া সামাজিক বনায়ন নীতিমালার আলোকে আর্বতনকাল উত্তীর্ণ হলে বাগানের গাছ বিক্রয়পূর্বক বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৫৫ লভ্যাংশ উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে সমভাবে বন্টন করা হবে।

এছাড়াও ভূমি মালিক সংস্থা শতকরা ২০ শতাংশ, ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভা ৫ শতাংশ, সরকারি রাজস্ব ১০ শতাংশ এবং পুনরায় বনায়নের জন্য ১০ শতাংশ অর্থ বন্টন করা হবে। বাগানটির উপকারভোগীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে রোপিত গাছে নিয়মিত পরির্দশন করে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। 

তিনি আরো বলেন, মাগুরা বন বিভাগ কর্তৃক সৃজিত বাগানটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নতির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: মাগুরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!