শনিবার সকালে জেলা শহরের মেড্ডা এলাকায় কালভৈরব মন্দিরে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৬ দিনব্যাপী হোমযজ্ঞ ও মহোৎসবের উদ্বোধন করেন মন্দির কমিটির সভাপতি পলাশ ভট্টাচার্য।
এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত থেকে আগত পুরোহিত পন্ডিতসহ স্থানীয় ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
.png)
পুরোহিতরা জানান, ৩০০ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা দূর্গাচরন আচার্য্য স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে শহরের মেড্ডা এলাকার তিতাস নদীর তীরে কালভৈরব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে প্রতি বছর এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর ডিনামাইটের মাধ্যমে ২৪ ফুট উঁচু কালভৈরব মূর্তির ক্ষতি হয়।
পরে বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক ভারত শিরোমনি খ্যাত ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী মহারাজ স্থানীয় ভক্তদের সহযোগিতায় মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।
পুরোহিতরা জানান, জগতের কল্যাণ কামনায় এই চন্ডী যজ্ঞের মাধ্যমে মহাকালকে তুষ্ট করার জন্যেই ধর্মীয়ভাবে এই প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে।
যজ্ঞের প্রধান পুরোহিত শ্রী মধুসূদন চক্রবর্তী বলেন, কাল ভৈরব মন্দির প্রাঙ্গণে এবার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। ৬দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আজকে প্রথম দিন যজ্ঞের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।
কালভৈরব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, চন্ডি শব্দ এসেছে চন্ড শব্দ থেকে। চন্ড মানে উগ্র। এই চন্ডকে স্ত্রী লিঙ্গ করে চন্ডী করা হয়েছে। উগ্রচন্ড সব সময় রাগান্বিত থাকেন। তাকে তুষ্ট করার জন্যেই মূলত প্রার্থনার আয়োজন।
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে আসা ভক্ত প্রদীপ দাস ও রাখি দাস জানান, বড়দের কাছে সব সময় কালভৈরব মন্দিরের মহাযজ্ঞের কথা শুনেছি, এবারই প্রথম আসছি এই মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানে।
অপর ভক্ত তাপস চক্রবর্তী, সিমন বনিক জানান, প্রতি বছরই মন্দিরে আসি। এবারো এসেছি।
মন্দিরে আসা ভক্ত রিপন রায় জানান, প্রতি বছর এই উৎসবে এসে সমবেত হই। এবারো এসেছি পরিবার নিয়ে।
মেলাতে মাটির পরশা নিয়ে বসা দোকানি রাজন দাস জানান, প্রতি বছরই তিনি এই মেলাতে মাটির খেলনা বিক্রি করে থাকেন। মেলার আজ প্রথম দিন হওয়াতে বেচা-কেনা মোটামোটি। তবে সামনে বিক্রি আরো ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরেক দোকানি সমশের মিয়া বলেন, বেচা-কেনা ভালোই হচ্ছে। তবে সামনে আরো বেশি ভালো হবে বলে তিনি আশা করেন।
কালভৈরব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পলাশ ভট্টাচার্য্য জানান, জীব ও জগতের শান্তি কামনায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারো যজ্ঞানুষ্ঠান হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে চলতে পারি সেজন্য সবার মঙ্গল কামনা করা হবে। যজ্ঞকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দেশ-বিদেশের ভক্তরা সমবেত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, ৬দিন ব্যাপি যজ্ঞ উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্হা জোরদার করা হয়েছে।
এ দিকে ৬দিনব্যাপী যজ্ঞ উৎসবকে কেন্দ্র করে কালভৈরব মন্দির আশেপাশে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় নাগরদোলাসহ খেলনা সামগ্রী, মাটির সামগ্রীসহ হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা।