ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যশোরে তিন বছরেই অকেজো সোলার স্ট্রিট লাইট 

মো. তবিবর রহমান, যশোর 
প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ১৮ মার্চ ২০২৪
যশোরে তিন বছরেই অকেজো সোলার স্ট্রিট লাইট 
স্থাপনের ৩ বছর পরই সেইসব সৌরবাতি এখন অকেজো। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোর পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে লাগানো সোলার স্ট্রিট লাইট বা সৌরবাতি সবগুলোই নষ্ট হয়ে গেছে।প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার খরচ করে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছিল বাতিগুলো। কিন্তু উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের অভাবে স্থাপনের ৩ বছর পরই সেইসব সৌরবাতি এখন অকেজো।

২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘সোলার স্ট্রিট লাইট’ স্থাপন করে যশোর পৌরসভা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ে পৌর এলাকায় ‘সোলার স্ট্রিট লাইট’লাগানোর কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষাণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ১০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৪টি সোলার স্ট্রিট লাইট লাগানো হয়। 

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি সোলার স্ট্রিট লাইট লাগানো হয় ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে তৃতীয় পর্যায়ে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি সোলার স্ট্রিট লাইট লাগানো হয়। এ লাইটগুলো সৃজনী বাংলাদেশ নামে একটি এনজিও স্থাপন করে। ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সৌর বাতিগুলো স্থাপন করা হয়। এরপর তিন বছর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মেরামতের দায়িত্ব ছিল। তারপর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

শহরের আরএন রোড নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা সজিব আহমেদ বলেন, সৌরবাতিগুলো স্থাপনের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর থেকেই নষ্ট হতে থাকে। সৌরবাতি ঠিকমতো জ্বলছে কি না, মাঝে মাঝে তা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও স্থাপনের পর কাউকে আমরা বাতিগুলো মেরামত করতে দেখিনি। আমার বাড়ির গেটের সামনেই একটি সৌরবাতি প্রায় দুই-তিন বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। পৌরসভার থেকে কেউ এখনও খোঁজ নিতে আসেনি। ওইসব স্থানে আলো না থাকায় বেড়েছে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও।

শহরের শহিদ সড়ক রোডের মাহবুবুর রহমান বলেন, শহরের প্রাণ কেন্দ্র দড়াটানা মোড় এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। সৌরবাতির খুঁটি থাকলেও তা জলে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে সৌরবাতিগুলো বসানো হলো। এখন একটিও জ্বলে না। তাহলে তো কোনো লাভ হলো না। রাতে ওই সব অন্ধকার স্থানে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। 

পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) সাইফুজ্জামান তুহিন বলেন, ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সোলার স্ট্রিট লাইট নষ্ট হয়ে গেছে। আবার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক লাইট কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন করে ওইসব স্থানে এলিডি লাইট স্থাপন করা হচ্ছে। 

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শেখ মাসুদুর রহমান মিঠু বলেন, ৩০ লাখ টাকা খরচ করে পৌরবাসীর সুবিধার জন্য সৌরবাতিগুলো বসানো হয়েছিল। অথচ এই বাতিগুলো কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো অকেজো হয়ে গেল। এখন বাতিগুলো দেখভাল করারও কেউ নেই। নতুন প্রকল্প হলে যতটা আগ্রহ দেখায় পৌর কর্তৃপক্ষ; নষ্ট হলে তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।
 
যশোর পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনি খান পলাশ বলেন, শহরের সৌরবাতি স্থাপনের কাজ আগের মেয়রের আমলে হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি মেরামতের বাজেটের জন্য সংশ্লিষ্ট দফদরে চিঠি দিয়েছিলাম। এখনো সাড়া মেলেনি।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!