গত বছরের ন্যায় এবারো চৈত্রের প্রথম সপ্তাহেই আর্শীবাদ হয়ে ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। গত বছরও ঠিক এ সময়েই বৃষ্টি হয়েছিলো। তবে কৃষিতে এবারের বৃষ্টি গত বছরের চেয়ে বেশি আর্শীবাদ তুষ্ট। কারণ এবার আম মুকুলে ফুদকি পোকার আক্রমণ ছিলো বেশি। আমের পাশাপাশি লিচু মুকুল ও বোরো আবাদসহ সব আবাদের জন্যই এ বৃষ্টিকে আর্শীবাদ হিসেবে জানাচ্ছেন কৃষি দফতর।
রাজশাহীতে মঙ্গলবার রাত থেকে বিরতি দিয়ে কখনো মুষলধারে আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরেছে। যে বৃষ্টি প্রাণ-প্রকৃতিতে সজীবতা এনেছে।
.png)
রাজশাহী আবহওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। বুধবার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সকাল ৬ টায় ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। এরমধ্যে গত ১৫ মার্চ রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক একেএম গাউসুজ্জামান বলেন, আকাশে মেঘ আছে। তবে ৭ টার পর বৃষ্টি কমে গেছে। রাতে বৃষ্টি হলেও হতে পারে। তবে আশা করছি, বৃহস্পতিবার আবহওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বেলা ১০-১১ টার মধ্যে রোদ উঠতে পারে।
তাপমাত্রার তীব্রতায় নগরীর আইল্যান্ডে ঝলসে নুয়ে পড়ার মতো অবস্থা তৈরি হওয়া বাহারি ফুল গাছগুলো সজীবতা ফিরে পেয়েছে। তার চেয়েও বেশি লাভবান হয়েছে রাজশাহীর ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমির আমের আবাদ। ৭০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির বোরো আবাদসহ অন্যান্য ফসলের জন্য এ বৃষ্টি আর্শীবাদের।
এদিন পবা উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কড়া সূর্যের তাপে প্রায় ওষ্ঠাগত হওয়া আম মুকুলগুলোর মাঝে সজীবতা ফিরে আসছে। ফুদকি পোকার আক্রমণও কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টির ছোয়ায় সবুজের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্যতা ফিরেছে। ধুলামাখা পথে ফিরেছে স্বস্তি।
পবার কৃষক আব্দুল গণি জানান, বাগানে বেশকিছু আম গাছ আছে। এবার এমনিতেই মুকুল কম। এরমধ্যে ছিলো পোকার আক্রমণ। বৃষ্টিটা হওয়াতে ভালোই হয়েছে। মুকুলগুলোর বোটা শক্ত হবে।
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, এই বৃষ্টিটা কৃষির জন্য আর্শীবাদ। ক্ষতি হতে পারে এমন পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি। বরং আম মুকুল ও বোরো আবাদসহ সব ফসলের জন্য বৃষ্টিটা ভালো। বিশেষ করে ফুদকি পোকা এবার আমগাছে সংক্রমণ ছিলো। ক্ষতিকারক এ পোকার ডানা ভেঙে এর আক্রমণও কমে গেছে।