ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গৃহবধূকে হত্যার পর টয়লেটে ফেলে রাখে লাশ, শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৯, ২৩ মার্চ ২০২৪
গৃহবধূকে হত্যার পর টয়লেটে ফেলে রাখে লাশ, শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক
ফাইল ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে গৃহবধূ আমেনা খাতুনকে (২১) নির্যাতনে হত্যার পর লাশ টয়লেটের ভেতর ফেলে স্বামীসহ শাশুড়ি ও দেবর পালিয়ে গেছেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনয়নের চকপাড়া (সলিংমোড়) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ আমেনা খাতুন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কুটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মাওনা ইউনিয়নের সলিংমোড় এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। স্বামী আনোয়ার হোসেন মাওনা ইউনিয়নের সলিংমোড় এলাকার মঞ্জুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

Advertisement

গৃহবধূর স্বামী আনোয়ার হোসেন (২৫), শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম (৫০), দেবর দেলোয়ার (২২) এবং মামি শাশুড়ি রেনু আক্তার (৩৮) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

নিহতের মা মনোয়ারা জানান, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েকে নির্যাতন করতেন। তাদের অব্যাহত নির্যাতনে স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি। শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় মেয়ের মামি শাশুড়ি রেনু আক্তার ফোন করে জানান, আমেনা মারা গেছেন। খবর পেয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখি বাড়িতে কেউ নেই। ঘরের ভেতরে টয়লেটে মেয়ের লাশ পড়ে আছে।

আশপাশের লোকজনের কাছে শুনেছি, শুক্রবার (২২ মার্চ) দিবাগত রাতে স্বামীসহ তার শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর এবং মামি শাশুড়ি আমার মেয়েকে নির্যাতন করে বাড়ির পাশে রাস্তায় ফেলে রাখেন। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় স্থানীয় আদম আলী গৃহবধূকে রাস্তা থেকে তুলে এনে বাড়িতে দিয়ে যান। ফের মারধরের পর হত্যা করে লাশ টয়লেটে রেখে তারা পালিয়ে যান। অভিযুক্তরা তাকে সবসময় নির্যাতন করতেন। তারা আমার মেয়েকে খুন করে পাঁচ বছর বয়সী ছেলে এবং দেড় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছেন।

শ্রীপুরের মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিন্টু মোল্লা বলেন, বসতবাড়ির একটি ঘরের টয়লেটের ভেতর থেকে গৃহবধূ আমেনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহালে লাশের থুঁতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় রহস্য ও সন্দেহ রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!