ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিদের
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। আর এ আনন্দ ও খুশি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় নতুন পোশাক। তাই তো ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসে মার্কেটের পাশাপাশি মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে দর্জিদের দুয়ারেও। এবার ঈদুল ফিতরকে ঘিরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।
ঈদকে সামনে রেখে নতুন নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার দর্জি কারিগররা।
উপজেলার টেইলার্সগুলোর কর্ণধাররা জানান, রোজার পূর্ব থেকেই অর্ডার নেয়া হচ্ছে। আরো কিছুদিন অর্ডার নেয়া যাবে।
.png)
ঈদকে সামনে রেখে এখন সেলাই মেশিনের শব্দে মুখর দর্জির দোকানগুলো। বাহারি নকশার পোশাক বানাতে ভিড় করছেন অনেকেই। উপজেলার দর্জি কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই এখন। অবশ্য ব্যস্ততা বেড়েছে রোজার আগে থেকেই।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রাম-গঞ্জের দর্জি দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ছোট বড় প্রতিটি দোকানেই সেলাই কাজের প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন কারিগররা। প্রত্যেক কারিগর দিনে তৈরি করছে প্রকারভেদে ৬ থেকে ৮ টি অর্ডার করা পোশাক।
সামনে ঈদ তাই রুজি-রোজগারের একমাত্র সম্বলটি যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। নতুন করে অর্ডার এখনো চলছে বলে জানা গেছে। পছন্দ মতো পোশাক বানাতে ক্রেতারা ছুটে যাচ্ছেন টেইলার্সগুলোতে। চাহিদা মতো নতুন পোশাক পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।
উপজেলা কেন্দুয়া বাজারের খোকন টেইলার্সের মালিক খোকন বিশ্বাস বলেন, ঈদকে সামনে রেখে তাদের ব্যস্ততা খুব বেড়েছে। শবে বরাতের পর থেকে ক্রেতারা ঈদের পোশাকের অর্ডার দিচ্ছেন। ১৫ রমজানের পর আর তাদের পক্ষে অর্ডার নেয়া সম্ভব হবে না। ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরই টেইলার্স মালিকরা নতুন কারিগর নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এবছর ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এরমধ্যে অধিকাংশ টেইলার্সই নতুন কারিগর নিয়োগ দিয়েছেন।

উপজেলার কেন্দুয়া বাজারের টেইলার্স সুজন দেবনাথ জানান, ছেলেদের প্যান্ট-শার্ট এবং মেয়েদের জামার অর্ডার টেইলার্সগুলো এখনো নিচ্ছে। এক সেট থ্রি-পিস বানাতে মজুরি লাগছে ৩০০-৪০০ টাকা, শার্ট বানাতে মজুরি লাগছে ২৫০-৩৫০ টাকা, প্যান্ট বানাতে মজুরি লাগছে ৪০০-৫০০ টাকা। বিভিন্ন মার্কেট ও স্থানভেদে এসব মজুরি নির্ধারণ হয়ে থাকে। কারিগরদের দৈনিক মজুরি বেশি হওয়ার কারণে বিভিন্ন পোশাক তৈরির মজুরি আগের চেয়ে বেশি।
বাজারে নতুন পোশাক অর্ডার দিতে আসা পলি আক্তারসহ কয়েকজন ক্রেতা বলেন, আর কিছুদিন পর আমাদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাচ্চাদের নতুন পোশাকের অর্ডার দিতে বাজারে এসেছি। কিন্তু মজুরির যা দাম আমরা তাতে হিমশিম খাচ্ছি। আমরা যারা নিম্নআয়ের মানুষ তাদের জন্য খুবই সমস্যা। পোশাক ও মজুরির দাম বাড়লেও আমাদেরতো আর আয় বাড়েনি।