শুক্রবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় ভৈরবের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিতে পরিবারটির ৪ সদস্যের কেউ আর কেউ বেঁচে রইলো না। মূহুর্তের দুর্ঘটনায় চিরতরে হারিয়ে গেলো একটি সুন্দর পরিবার।
সোহেল ভৈরব হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে।
.png)
পেছনের ঘটনা
দুর্ঘটনার কয়েকদিন আগে ভাগনি মারিয়াকে বাড়ি থেকে ভৈরব বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলো পুলিশ কনষ্টেবল সোহেল রানা। মারিয়া এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। অবসর সময়টা কাটাতে মামার সঙ্গে আনন্দ চিত্তে বেড়াতে যায় মারিয়া। সেই আনন্দই আজ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
২২ মার্চ শুক্রবার বিকেলে সোহেল তার স্ত্রী, ২ সন্তান ও ভাগনি মারিয়াকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের সোনারচর দ্বীপ গ্রাম দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে নৌকায় থাকা কয়েকজন ছবি তোলার জন্য মাঝিকে অনুরোধ করলে মাঝি তার হাতের বৈঠা ছেড়ে ছবি তুলে দিচ্ছিলেন। এ সময় নৌকাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি বাল্কহেড ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে নৌকা উল্টে যায়। এ সময় মারিয়া প্রাণে বেঁচে গেলেও অপর ৪ জন পানিতে তলিয়ে যায়। অনুসন্ধানে নামে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের ডুবুরী দল।
নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে গত ৩ দিনে একে একে সবার মরদেহ উদ্ধার হয়। সোমবার সকালে সোহেল (৩০) ও তার ছেলে রায়সুলের (৫) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে শনিবার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৫) ও রোববার মেয়ে মাহমুদার (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি সাজু মিয়া বলেন, সোহেল রানা আমাদের সহকর্মী ছিলেন। এভাবেই পুরো পরিবারটি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার খবরে আমরা মর্মাহত। তার পরিবারের সবার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের পর শনিবার রাতে দেবিদ্বারে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সোমবার বাদ জোহর ভৈরব হাইওয়ে থানার সামনে সোহেল ও তার ২ সন্তানের জানাজা শেষে মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনরা গ্রামের বাড়িতে যান।
সোহেলের ভগ্নিপতি ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের এএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ৩ জনের মরদেহ সোমবার বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নয়ন মিয়া, ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ। এক সঙ্গে ৪ জনের মৃত্যুর খবরে সোহেলের গ্রামের বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকার লোকজন। সেখানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি হলেন কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি বেলন দে (৫০)। এই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যু হলো। অন্যরা হলেন- ভৈরবের কমলপুর এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে সুবর্ণা (২৫), আমলাপাড়ার টুটন দের ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া মেঘলা দে আরাধ্যা (১১), আমলাপাড়া এলাকার ঝন্টু দের ন্ত্রী রুপা দে (৩০) ও নরসিংদীর বেলাব উপজেলার দাড়িয়াকান্দি এলাকার দারু মিয়ার মেয়ে আনিকা আক্তার (১৭)।