ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মসজিদ ঘেরাও করে যেভাবে লুট করা হলো সোনালী ব্যাংকের টাকা

আবুবকর ছিদ্দীক,বান্দরবান
প্রকাশিত: ০০:৪৮, ৩ এপ্রিল ২০২৪
মসজিদ ঘেরাও করে যেভাবে লুট করা হলো সোনালী ব্যাংকের টাকা
ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রায় দুই কোটি টাকা ও ১০টি অস্ত্র লুট করেছে। এ সময় ব্যাংক ম্যানেজার মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিনকেও অপহরণ করে নিয়ে গেছে তারা। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত ৮.৪৫ এর দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট ( কেএনএফ) এর বিরুদ্ধে। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিদারুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮.৪৫ এর দিকে হঠাৎ কেএনএফ এর একটি সশস্ত্র  গ্রুপ রুমা উপজেলা মসজিদ ঘেরাও করে মুসল্লিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। পরে উপজেলা অফিসে হামলা, রুমা সোনালী ব্যাংক লুট, ও ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা ৬ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ১০ টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩৮০ রাউান্ড গুলি নিয়ে গেছে। এসময় ডাকাতরা ব্যাংকের ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকেও অপহরণ করে নিয়ে যায়।

Advertisement

রুমা বাজারের প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, রাত ৮.৪৫ এর দিকে রুমা বাজার জামে মসজিদে তারাবি নামাজ চলাকালীন সময়ে ৬০-৭০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল  মসজিদ এবং বাজার ঘেরাও করে। প্রথমে তারা ব্যাংকের পাহারায় থাকা আনসার সদস্যদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বেঁধে রাখে। এরপর তারা ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে লকার ভেঙে টাকা লুট করে।

আরো পড়ুন: সোনালী ব্যাংকের দুই কোটি টাকা লুট, অস্ত্র ছিনিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ

ব্যাংক থেকে টাকা লুট করার সময় অস্ত্রধারীদের ৪০ থেকে ৫০ জন বাইরে পাহারায় ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা। টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা আনসারের ৪টি অস্ত্রও নিয়ে যায়। ব্যাংক লুট করতে অস্ত্রধারীরা প্রায় আধা ঘণ্টা সময় নেয় বলেও জানা গেছে।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শৈবং মার্মা জানান,আজ দুপুরে বান্দরবান সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয় থেকে রুমা সোনালী ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়েছে। কেএনএফ সদস্যরা এ তথ্য পেয়ে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

রুমা থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে আমরা কাজ করছি। ব্যাংক থেকে ঠিক কত টাকা লুট হয়েছে তা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আসলে বলা যাবে। ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মসজিদ ঘেরাও করে ওই এলাকায় যারা ছিল সন্ত্রাসীরা তাদেরকে মারধর করে  টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। রুমা উপজেলা বাজার থেকে উপজেলা কমপ্লেক্স এবং সোনালী ব্যাংকটি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকায় সন্ত্রাসীরা এই সুযোগটি নিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকায় জনমনে আতঙ্ক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/AS
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!