রূপসা নব পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মোংলা বন্দর থেকে সারবোঝাই কার্গো নওয়াপাড়া যাওয়ার পথে এমভি থ্রি লাইট-১ খুলনার রূপসা নদীর উপর নির্মিত রেলসেতু পিলারে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। কার্গোতে থাকা ১৩ নাবিকের মধ্যে ১১ জন সাঁতরে কূলে উঠতে সক্ষম হলেও দুইজন নিখোঁজ হন।
.png)
কার্গো জাহাজ থেকে সাঁতরে কূলে আসা এক শ্রমিক বলেন, আমরা ইঞ্জিনরুমে ছিলাম। হঠাৎ একটি শব্দ পেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে দেখি জাহাজ ডুবে যাচ্ছে। আমার সঙ্গে গিজার শাকিল ভাই ছিলেন। তবে তিনি পড়ে গিয়ে উঠতে পারেননি। আমিও পড়ে গিয়েছিলাম, পরে সাঁতরে কূলে এসেছি। এছাড়া বাবুর্চিও পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি। চালনা থেকে সার নিয়ে কার্গোটি নওয়াপাড়া যাচ্ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে জাহাজডুবির খবর পেয়ে নৌ পুলিশ, রূপসা থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের পৃথক তিনটি টিম নৌযান নিয়ে রূপসা নদীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। বৈরি আবহাওয়া ও নদীতে জোয়ার থাকায় ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। এছাড়া তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ ২ জনের সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাসান বলেন, দুপুর ১২টার দিকে নদীর পাশে আমি বসেছিলাম। এ সময় হঠাৎ দেখি একটি জাহাজ রূপসা রেল সেতুর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। কিছু মানুষ সাঁতরে উঠলেও শুনেছি দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাহাজে ইঞ্জিনের দায়িত্বে থাকা মো. রাজিব বলেন, ইঞ্জিন হঠাৎ করে বিকল হয়ে যায়। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমাদের দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।
টিএলএন-১ কার্গো জাহাজের মাস্টার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কার্গো জাহাজটি রেল সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগে। এতে দ্রুত কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। কার্গো জাহাজে থাকা ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। কার্গোর বাবুর্চি কালাম ও গ্রিজার শাকায়েত নিখোঁজ হন।
তিনি জানান, কার্গো জাহাজে মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকা থেকে ১ হাজার ১৪০ টন টিএসপি সারবোঝাই করে তারা নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রেল সেতুর পিলারে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।