দাম কম তবুও বিক্রি নেই তরমুজের
মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রি হলেও এখন দাম কমিয়েও আশানুরূপ তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চাষিরা। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার অনেক চাষি।
উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেঁগে ওঠা চর সামছুদ্দিন, ১০ নম্বর, চর পাতা, দেউলা ও সাচড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ বছর তরমুজের চাষাবাদ করেন চাষিরা। ফলন ভালো হলেও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এতে করে অনেকে চাষি লোকসানের মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোরহানউদ্দিনে মোট ৮২০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষাবাদ হয়েছে। যেখান থেকে ৪৫ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের আশা করছে কৃষি অফিস। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় বিগত বছরের চেয়েও এ বছর কৃষকদের ক্ষেতে ফলন অনেক ভালো হয়েছে।
.png)
বোরহানউদ্দিনের বিচ্ছিন্ন চর সামছুদ্দিনের চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মৌসুমের শুরুর দিকে যারা তরমুজ বিক্রি করছেন তারা ভালো দাম পেয়েছেন। এখন অনেক কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষেত থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ দরে। যা গত বছর পাইকারি দর বিক্রি হয়েছে ৪শ টাকায়। ১০-১৫ কেজি ওজনের তরমুজগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা দরে এবং এর নিচের গুলো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।
ওই চরের আরেক চাষি সোহেল জানান, ৬০ একর জমিতে সুপার ড্রাগন ও বিট ফ্যামিলি জাতের তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজের ফলন অনেক ভালো হলেও বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে করে চাষাবাদের খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে বোরহানউদ্দিন পৌর শহরের, কুঞ্জের হাট, দরুন বাজার ও মজম বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের তরমুজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। মাঝারি আকারের তরমুজ ১৫০-২০০ টাকা ও ছোট আকারের তরমজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৫০ টাকায়।
দাম কমার বিষয়ে উপজেলার ক্রেতারা মনে করছেন, গত কয়েক বছর ধরে অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে তরমুজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর তরমুজ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই দাম কমিয়েও ব্যবসায়ীরা আশানুরূপ তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মন্ডল বলেন, রমজান আগেভাগে আসা, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে গরম কম থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তরমুজ বয়কটের পোস্ট করায় বাজারে তরমুজের চাহিদা কিছুটা কম। বর্তমানে দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। আশা করছি ঈদের পর তরমুজের চাহিদা ও বিক্রি বৃদ্ধি পাবে।