রোববার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলুয়াপাড়া গ্রাম থেকে বানরটিকে উদ্ধার করে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকরা।
প্রাণীটিকে উদ্ধারের পর বনবিভাগের সহায়তায় গহীন বনের অবমুক্ত করে স্বেচ্ছাসেবকরা।
.png)
এর আগে শনিবার রাতে সোমেশ্বরী নদীর বালুচর থেকে বানরটিকে আটক করে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক। পরে রাতে বানরটিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনালি বাজারে স্থানীয়রা তাদের আটকে স্বেচ্ছাসেবকদের খবর দেয়।
এই দিকে গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল) খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে লোহার খাঁচায় বন্দী হয় বিলুপ্ত প্রজাতির আরো একটি লজ্জাবতী বানর। পরে খবর পেয়ে উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের নন্দেরছটি গ্রাম থেকে লজ্জাবতী বানারটিকে উদ্ধার করে গহীন বনে অবমুক্ত করে স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের তিনালি বাজারে স্থানীয় কয়েকজন বালু শ্রমিক বাঁশ, কাঠ ও লোহার তার দিয়ে তৈরি করা খাঁচার ভেতর অজানা একটি প্রাণীকে নিয়ে বাজারে আসে। অনেকেই প্রাণীর সামনে ভিড় করে দেখার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন নামে ডাকে। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা আমির খান প্রাণীটি লজ্জাবতী বানর বলে তাদেরকে জানায় এবং উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবকদের খবর দেয়। পরে শ্রমিকরা প্রাণীটিকে বাজারে রেখেই পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরো জানান, নদীর বালুচরে ছোট এই প্রাণীটিকে দেখতে পেয়ে কয়েকজন মিলে প্রাণীটিকে ধরে খাঁচায় বন্দি করে। পরে তাৎক্ষণিক খাঁচা তৈরি করে এটিকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়ে।
সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক সুমন বলেন, শনিবার রাতে জানতে পারি তিনালি গ্রামে একটি লজ্জাবতী বানর ধরা পড়েছে এবং স্থানীয় একজন বাসিন্দা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে তারা বাড়িতে রেখেছে। পরবর্তীতে রোববার দুপুরে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পুরোপুরি সুস্থ থাকায় বিকেলেই স্থানীয় বন বিভাগের সহযোগিতায় বানরটিকে আবারো বনে অবমুক্ত করি। এর আগে গত শুক্রবার বিলুপ্ত প্রজাতির আরো একটি লজ্জাবতী বানর গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের নন্দেরছটি গ্রাম থেকে উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করি। মাত্র একদিনের ব্যবধানে দুইটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার হলো।
তিনি আরো বলেন, মূলত খাদ্যের সন্ধানেই এই প্রাণীগুলো বারবার লোকালয়ে আসছে। বর্তমানে বনভূমিতে যেভাবে প্রাকৃতিক গাছ ধ্বংস হচ্ছে এতে করে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল দিনের কমে আসছে। বিশেষ করে বছরে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত খাদ্যের সন্ধানে এই প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসে। এ সময় মানুষের নজরে আসলে প্রাণীগুলোকে আটকে তারা খাঁচা বন্দি করে। আমরা এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ টি রেসকিউ অপারেশন সম্পন্ন করেছি। এরমধ্যে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আমরা ১৪ টি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছি।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেওয়ান আলী বলেন, গত একদিন আগেও আমাদের সহায়তা নিয়েই সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকরা বনে একটি লজ্জাবতী বানান অবমুক্ত করে। এর একদিন যেতে না যেতেই আজকে আরো একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার হয়েছে। আজকেও আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে গহীন বনে বানরটিকে অবমুক্ত করেছি।