ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জমি বন্ধক রেখে টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে মারধর

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৩১, ১০ এপ্রিল ২০২৪
জমি বন্ধক রেখে টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে মারধর
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় জমি বন্ধক রেখে টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে মো. নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী মো. নজরুল ইসলাম লাঙ্গলবাঁধ ভূমি অফিসের কর্মচারী। 

এ ঘটনায় সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নজরুল। এর আগে, রোববার (৭ এপ্রিল) উপজেলার মদনপুর গ্রামে তারাবির নামাজ শেষে এ ঘটনা ঘটে। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে মিঠু শেখের কাছ থেকে জমি বন্ধকের বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চান নজরুল ইসলাম। তখনই অভিযুক্ত মিঠু সুদের ৫ হাজার টাকা অগ্রিম কেটে রেখে ২৫ হাজার টাকা দেন। নজরুল ইসলাম সরল মনে জমি বন্ধকের টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে মিঠুকে আবার ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। তখনো নজরুল জানতেন না বা মিঠু বলেননি ঐ টাকার অতিরিক্ত সুদের লাভ দিতে হবে। ২৭ রমজান নামাজ পড়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে মিঠু শেখ তার কাছে অতিরিক্ত সুদসহ আসল টাকা চান। তখন নজরুল ইসলাম দিশেহারা হয়ে যান। তখন নজরুল ইসলাম বলেন, আমি জমি বন্ধক রেখেছি, কিন্তু মিঠুর কাছ থেকে সুদে টাকা নিইনি। এমনকি বন্ধকের ১০ হাজার টাকা ফেরতও দিয়েছি। তখনো মিঠু তাকে এ বিষয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু মিঠুর দাবি, লাভের অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। এতে রাজি না হওয়ায় নজরুলকে মারধর করা হয়। টাকা দেওয়ার পরেও মিঠু এখনো ৩৫ হাজার টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

Advertisement

ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি জমি রেখে মিঠু শেখের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিলেও তখনই সে ৫ হাজার লাভ রেখে আমাকে ২৫ হাজার টাকা দেয়, যা আমি পরে জানতে পারি। আমি তাকে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু মিঠু এখনো ৩৫ হাজার টাকার দাবি করছে। সে আমাকে মারধর করেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তিনি আরো বলেন, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইউএনও অফিস থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই। 

অভিযুক্ত মিঠু শেখ বলেন, নজরুল ইসলাম বিপদে পড়ে আমার কাছে টাকা ধার চাইলে আমি অন্য একজনের কাছ থেকে এনে টাকাটা দিই। সময়মত টাকা না দেওয়ায়ই তারা আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমি তার কাছে টাকা চাইলে দেই না বলে আমি তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছি। 

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মমতাজ মহল জানান, নজরুল ইসলামের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। কেন মিঠু এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলেন এবং তার গায়ে হাত দিলেন এ ব্যাপারে তাকে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে ডাকা হয়েছে। তিনি বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে না এলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!