আকলিমা জানায়, মাসহ বেড়িবাঁধের ওপরের সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলে বসবাস করছিলাম। গত রোববারের (৭ এপ্রিল) প্রচণ্ড ঝড়ে আমাদের নড়বড়ে ঘরটি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ঐ ঘরের নিচেই চাপা পড়েন আমার মা। মাকে ঘরের নিচে চাপা পড়তে দেখে চিৎকার শুরু করি। ঝড়ের কারণে কেউ আমার চিৎকার শুনতে পায়নি। তবে ঝড় কমে গেলে আমার কান্নার শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এরপর মাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি ঘরে নেয়া হয়। টাকার অভাবে গুরুতর অবস্থাতেও মাকে হাসপাতালে নিতে পারিনি। আমার চোখের সামনেই গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাতে মা মারা যান। তার কবর দিয়েছি বসতভিটার সামনের খাস জমিতেই। মাকে হারানোর শোক কিছুতেই কমছে না। যার ফলে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। কারণ আমি যে নিঃস্বপ্রায়।
সে আরো জানায়, আমি ছোট থাকতেই আমাদের এক ভাই ও দুইবোনকে মাসহ ফেলে রেখে বাবা নতুন করে বিয়ে করেন। এরপর আর আমাদের কোনো খোঁজখবর নেননি তিনি। ভাইও গত কয়েক বছর আগে অভাবের কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। তারও কোনো খোঁজ নেই। বড় বোন চট্টগ্রামে গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে। ঐ দুই সন্তানসহ তাকে রেখেও চলে গেছেন বোনজামাই। গার্মেন্টেসে চাকরি করে আমার বোন যা বেতন পায় সেখান থেকে নিজের সংসার চালানোর পর আমাদের কিছু টাকা দিতো। এছাড়া গ্রামে আমি মানুষজনের ঘরের কাজ করে মাকে নিয়ে সংসার চালাতাম। ঝড়ে আমার মা মারা গেছেন। বসতভিটাও এখন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। আমি অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছি। নতুন করে ঘর তৈরি বা মেরামতের কোনো সাধ্যই আমার নেই। এখন কি করবো তাই ভেবে পাচ্ছি না। তাই আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
.png)
কিশোরী আকলিমার প্রতিবেশী নূর নাহার বলেন, আকলিমা জন্মের পর থেকে তার মায়ের সঙ্গেই থাকছে। সে আসলেই যেন জনম দুঃখী। কারণ তার জন্মের পর থেকে কষ্টেই কেটেছে তাদের সংসার। একটু বড় হওয়ার পর থেকেই মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হয়েছে আকলিমা ও তার মাকে। গত কয়েকদিন আগের ঝড়ে আকলিমার কষ্ট আরো বাড়িয়েছে। ঝড়ে ঘর চাপা পড়ার দুই দিনের মাথায় তার মা বিনাচিকিৎসায় মারা গেছেন। তার ওপর বসতঘরটিও ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এখন কেবল ফাঁকা পড়ে আছে তাদের বসতভিটা। অসহায় এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক আকলিমার পক্ষে কোনোভাবেই নতুন করে ঘর তোলা সম্ভব না। তাই আকলিমাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে প্রতিবেশী হিসেবে আমরাও দাবি জানাচ্ছি।
বদরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন বলেন, ঝড়ের পরপরই আমি বেড়িবাঁধের ওপারের সবার ঘরবাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখেছি। এরমধ্যে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের একটি তালিকাও করেছি। ঈদের ছুটির কারণে ঐ তালিকা ইউনিয়ন পরিষদে দিতে পারছি না। তবে ছুটি শেষ হলেই ঐ তালিকা ইউনিয়ন পরিষদে দেবো। সেখানে আকলিমার মায়ের মৃত্যু ও ঘরের ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করেছি। তালিকা অনুযায়ী কোনো বরাদ্দ আসলে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে লালমোহনের ইউএনও মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা আগে কেউ আমাকে জানায়নি। জানলে তখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যেত। তবে এখন জেনেছি, ক্ষতিগ্রস্ত ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে তাদের সহযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।