বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখ। একসঙ্গে দুটি উৎসবের ছুটি পেয়ে মনের আনন্দে মাতোয়ারা সব বয়সী মানুষ। টানা ছুটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল সুন্দরবনের করমজলে। ঈদের দিন লোকজন কিছুটা কম থাকলেও পরদিন সকাল থেকেই সুন্দরবনের পর্যটন স্পট করমজলে ঢল নামতে শুরু করে পর্যটকদের।
মোংলায় থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি ও আকর্ষণীয় হওয়ায় পর্যটন কেন্দ্র করমজলেই ভিড় সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের। এছাড়াও বনের হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী ও আন্ধারমানিকসহ অন্যান্য স্পটে ঢল নেমেছে পর্যটকদের। এই ছুটিতে বড় বড় বিলাসবহুল লঞ্চে সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বয়সের মানুষরা।
.png)
সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, এর আগে কখনো সুন্দরবনে আসা হয়নি, এবারই প্রথম এসেছি। সুন্দরবন আসলেই অসম্ভব সুন্দর। খুব ভালো লেগেছে। বন্ধু-বান্ধব মিলে অনেক আনন্দ করলাম। সুন্দবনে এসে হরিণ, কুমির, বানর, কচ্ছপ দেখলাম। সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ারের ওপর থেকে ছাতার মতো বিস্তৃত বনের বিভিন্ন গাছপালা দেখে প্রাণ ভরে গেছে। কি সবুজ সজীব শীতল পরিবেশ, মনে হয় নির্মল এক অক্সিজেনের কারখানায় এসেছি।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সুন্দবনের মতো এতো আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারকে আগে কখনো দেখিনি। যত দেখছি ততোই মন জুড়াচ্ছে, ভাবছি এতোদিনে কেন আসলাম না। সুন্দরবনের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা গেলে তাতে উপকূলের মানুষের মঙ্গল হবে।
এদিকে ঘুরতে এসে বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন পর্যটকরা।
পুর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটক স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের টানা ছুটিতে পর্যটক বাড়বে, তাই আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি রেখেছি। অবকাঠামোগত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ভ্রমণপিপাসুরা যাতে নির্বিঘ্নে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য বনরক্ষীরাও টহল দিচ্ছেন। ছুটির দিনেও পর্যটকদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।