সরেজমিন জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র পলওয়েল পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, রাঙ্গামাটি পার্ক, বরগাঙসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। হোটেল-মোটেল, রিসোর্টগুলো পর্যটকে ভরপুর। স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের দিন পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
.png)
রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত সেতুতে ঢাকার টঙ্গি থেকে আসা কলেজ ছাত্র তানভীর, সোহাগ, হৃদয় জানান, রাঙ্গামাটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা প্রথমবার এজেলায় এসেছেন। তিনদিন এ শহরে থাকবেন।
তারা বলেন, আমরা আসার পর থেকে যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছি। এ শহর নিরাপদ। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করেছে। এখানে দুইদিনে কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়িনি। সবাইকে এ শহর উপভোগ করতে আসার আহবান জানান তারা।
চট্টগ্রাম থেকে আসা দম্পতি মনির খান ও তার স্ত্রী জানান, বিয়ের পর তারা এই প্রথম কোথাও ঘুরতে বেরিয়েছেন। সারাদিন কাপ্তাই হ্রদে নৌ ভ্রমণ করে হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
রাঙ্গামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রমজান আলী বলেন, ঈদ ও নববর্ষের ছুটির কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলাম। আশা করেছিলাম বিপুল পর্যটকের সমাগম হবে। পর্যটকরা এসেছেন, তবে শুষ্ক মৌসুম হওয়াতে হ্রদের পানি কিছুটা কমেছে। তাও পর্যটকরা নৌ ভ্রমণে যাচ্ছেন, আমরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করেছি।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, টানা ছুটিতে গত দুদিনে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। আয়ও বেড়েছে। বর্তমানে পর্যটন করপোরেশনের হোটেলের শতভাগ বুকিং রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাঙ্গামাটিতে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটের মধ্যে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, রাঙ্গামাটি পার্ক, রাজ বনবিহার, জেলা প্রশাসনের বাংলো, পুলিশের পলওয়েল পার্ক, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিসৌধ, বার্গী লেক, ইজর, আসামবস্তি, রাঙ্গমাটি-কাপ্তাই সড়ক।
এ ছাড়াও রয়েছে রাঙ্গামাটি শহরের বাইরে বিলাইছড়ি ন-কাটা ঝরনা, মুপ্পাছড়া ঝরনা, ধুপপানি ঝরনা, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি, কংলাক পাহাড়, কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট, কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কর্ণফুলী পেপার মিলস্ ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি।
শনিবার ফুল ভাসিয়ে রাঙ্গামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এছাড়াও ১৫ এপ্রিল শহরের মাঝের বস্তিতে নববর্ষের শোভাযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (ব্যান্ড শো), ১৬ এপ্রিল মারী স্টেডিয়ামে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই জলোৎসব রয়েছে। বর্তমানে রাঙ্গামাটি উৎসব এবং সম্প্রতির শহরের পরিণত হয়েছে।