সচিবালয়ে চাকরির সুবাদে পরিচিতদের মাধ্যমে সম্প্রতি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের জন্য তদবির করে ত্রাণ হিসেবে কয়েক বান্ডিল টিন সহায়তার বরাদ্দ আনেন। এরপর সকালে একটি পিকআপে করে নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আশেপাশের গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে সেই টিন আনতে যাচ্ছিলেন ফরিদপুরের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে। কিন্তু পথিমধ্যে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে রাকিবুলের স্ত্রী সুমি বেগম ও দুই সন্তান আবু রায়হান ও আবু সিনান রুহানসহ ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মিলনের মা খুড়িয়া বেগম। এ দুর্ঘটনায় মর্জিনা বেগম নামে মিলনের একজন নানি শাশুড়িরও মৃত্যু হয়েছে। মর্জিনা বেগম একই গ্রামের ওহাব মোল্লার স্ত্রী।
.png)
এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
বোয়ালমারীর ছত্রকান্দা গ্রামটি আলফাডাঙ্গা উপজেলার সীমান্ত ঘেষা। তাদের ডাকঘর এই আলফাডাঙ্গাই।
রাকিবুল ইসলাম মিলনের মামাতো ভাই নুরুজ্জামান খসরু বলেন, ঢাকা থেকে কয়েকটি দরিদ্র পরিবারের জন্য ত্রাণের টিনের ব্যবস্থা করে সোমবার বিকেলে বাড়িতে আসেন মিলন। সকালে ফরিদপুর রওনা হয়। তার আগে গতরাতে সর্বশেষ কথা হয়েছিল তার সঙ্গে। বলেছিলো, ত্রাণের টিনগুলো বুঝিয়ে দিয়ে ওই পথেই চলে যাবেন ঢাকা। কিন্তু এটিই যে তার শেষ যাওয়া সেটি কি কেউ জানতো।
তিনি বলেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়ার তিন ছেলের মধ্যে রাকিবুল ইসলাম মিলন মেঝো ছিলেন। তার বড় ভাই ফরিদুল ইসলাম একজন স্কুলশিক্ষক। আর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান মাস্টার্স পাশ করে আলফাডাঙ্গা সদরে ফোন ফ্লেক্সির দোকান করেন।
৮ বছর আগে আলফাডাঙ্গার বানা ইউপির আড়পাড়া গ্রামের রোকায়েশ মোল্লার মেয়ে সুমির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নিহত রাকিবুলের আরেক ফুফাতো ভাই মকিবুল ইসলাম এভাবে পিকআপে যাত্রী চলাচলের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এভাবে সবার সামনে পিকআপে ১৫-২০ জন মানুষ যাত্রা করলো অথচ কেউ কিছু বললো না! সড়কপথে এভাবে যাত্রী চলাচল নিষিদ্ধ হলেও কেউ সে আইন মানে না। আবার যাদের দেখভাল করার কথা তারাও কিছু বলে না।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম অবশ্য এ ব্যাপারে যাত্রীদেরই সচেতন হওয়ার উপর জোর দেন বেশি।
তিনি বলেন, যেই পিকআপটিতে করে তারা যাচ্ছিলেন হয়তো তার চালকের কোনো লাইসেন্সই ছিল না। এজন্য যখন কেউ কোনো পরিবহনে উঠবেন, নিজের দায়িত্বশীলতা থেকেই জেনে নিবেন, গাড়িটি উপযোগী কিনা কিংবা চালকের বৈধতা আছে কিনা।
মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুরের দিগনগর এলাকায় বাস পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হন।